Home / উৎসব ও সংস্কৃতি / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা এতা বই কোথায়?
5 3 26 56666666

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা এতা বই কোথায়?

০৭ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ মাসস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ঘিরে যে শত শত বই লেখা হয়েছিল, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা যেন ‘হাওয়া’।

অমর একুশে বইমেলায় বিভিন্ন স্টলে ঘুরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই খুঁজে পেতে রীতিমত অনুসন্ধান চালাতে হল।

গবেষণাধর্মী গুরুত্বপূর্ণ অনেক বইও নেই মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলে। কোনো কোনো স্টলে গিয়ে বইয়ের নাম বলা হলে স্তূপের ভেতর থেকে তা বের করে দিচ্ছেন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থা বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করছে না।

মেলা পরিচালনা কমিটি বলছে, কোনো নির্দিষ্ট বই প্রদর্শন বা বিক্রি না করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তবে মেলার মাঠে ঘুরে এবং প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বেশিরভাগ বই মেলায় প্রদর্শন বা বিক্রি করা হচ্ছে না। হাতেগোনা কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার স্টলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই বিক্রি হচ্ছে।

মেলার মাঠেই কথা হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বললেন, “অতিরঞ্জিত কিছুই টিকে না। আওয়ামী লীগ আমলে বঙ্গবন্ধু নিয়ে অনেক অতিরঞ্জন করা হয়েছে।

“অভ্যুত্থানের পর দেখেন জুলাই নিয়ে প্রকাশের হিড়িক ছিল। এবার কিন্তু সেটাও কমে গেছে। এবার দেখি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান নিয়ে কিছু বই বের হচ্ছে। অতিরঞ্জিত কিছুই ভালো না।”

‘মুজিব জন্মশতবর্ষে’ বাংলা একাডেমি থেকেই শতাধিক বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রকাশ হয়েছিল। যার মধ্যে ‘আমার দেখা নয়াচীন’, ‘কারাগারের রোচনামচা’সহ কিছু বই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে গবেষকদের অনেকে মনে করেন।

মেলায় বাংলা একাডেমির স্টলে গিয়ে পাওয়া যায়নি বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কোনো বই। স্টলের বিক্রয়কর্মীরা নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক অনেক বই প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় মেলাগুলোতে প্রায় সব প্রকাশনা সংস্থার স্টলে ছিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই প্রকাশের প্রতিযোগিতা।

মেলা পরিচালনা কমিটির নতুন বইয়ের তালিকায় বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরিই রাখা হত তখন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

তবে ব্যতিক্রম দেখা গেল হাতেগোনা কয়েকটি স্টলে। দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে প্রকাশ হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি। ইউপিএল এর স্টলে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ কয়েকটি বই বিক্রি হতে দেখা যায়।

মেলার মাঠে অন্তত ২০টি প্রকাশনা সংস্থার স্টলে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের স্টলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কোনো বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে না। অথচ ‘মুজিব জন্মশতবর্ষে’ বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রকাশ করেছিল তারা।

বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদের বঙ্গবন্ধু ও মুজিবনগর সরকার, প্রাবন্ধিক স্বরচিত সরকারের বঙ্গবন্ধু ও বাংলা ভাষা, অধ্যাপক দিব্যদুতি সরকারের বঙ্গবন্ধুর কারাগার জীবন, সাইমন জাকারিয়ার সাধক কবিদের গানে বঙ্গবন্ধু। বইগুলো প্রশংসিতও হয়েছিল। তবে এবারের মেলায় বইগুলো নেই।

বঙ্গবন্ধুর বই বিক্রি বা প্রদর্শনে বাধা কোথায়?

মেলায় অংশ নেওয়া অন্তত ১০টি প্রকাশনা সংস্থার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম। তবে তারা কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তাদের বক্তব্য অনেকটা একই রকম। একজন বললেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন জায়গায় তো বঙ্গবন্ধুর নাম বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রদর্শন বা বিক্রি করাটা এখনো নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।”

এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ভীতিকর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পুরোপুরি ‘ভয়হীন পরিবেশ’ এখনো আসেনি বলে মনে করছেন তারা।

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, “মানহীন বই সময়ের স্রোতে এমনিতেই হারিয়ে যায়। যেগুলো মানসম্পন্ন, তা টিকে থাকে। এটাই ইতিহাসের সত্য।”

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অতিরঞ্জনের কারণে শত শত মানহীন বইও প্রকাশ হয়েছে। এগুলো এমনিতেই সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেত। আবার কিছু মানসম্পন্ন বইও আছে, যেগুলোর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক বেশি।

“সেই বইগুলো এখন ‘মব’ বা নানান রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে না, তবে সেগুলো হারিয়ে যাবে না। সমঝদার পাঠক সেই বইগুলো নানাভাবে সংগ্রহ করবেন।”

এবারের মেলায় মহিউদ্দিন আহমদের লেখা প্রথম উপন্যাস ‘শেখ মুজিবের লালঘোড়া’ প্রকাশ করেছে অনন্যা। এছাড়া ‘হাসিনা’ নামে আরেকটি বই প্রকাশ করেছে বাতিঘর। বইটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং তার শাসনকালের একটি গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ রয়েছে৷

লেখক ও গবেষক সালেক খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অসম্মানমূলক ঘটনা ঘটিয়ে আপনি কখনোই সম্মানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। জুলাই গণঅভ্যুথানের পর তো আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে অসম্মান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে।

“ফলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলা, প্রচার বা প্রকাশে একটা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তখন থেকেই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে চিন্তা করার সুযোগ নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অতিরঞ্জিত অনেক কিছুও আমরা দেখেছি। তাকে নিয়ে প্রচুর মানহীন বইও প্রকাশিত হয়েছে তখন।

“অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘মব সন্ত্রাসের’ নানা ঘটনায় প্রকাশকরা হয়ত এখনো ভীতির মধ্যে আছেন। এটাই বাস্তবতা। ইতিহাসে যার যতটা অবদান ছিল তা তুলে ধরতে হবে। এর জন্য রাষ্ট্রেরও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

“সব মত ও পথের কথা বলবার অধিকার রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু, ভাসানী, জিয়াউর রহমান কিংবা তাজউদ্দীন আহমেদের মত মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কদের নিয়ে নির্ভয়ে গবেষণা করার পরিবেশ থাকতে হবে। একটি স্বাধীন দেশে শত মতের শত ফুল ফুটতে দিতে হবে।”

মেলায় নির্দিষ্ট কোনো বই রাখা কিংবা না রাখা নিয়ে ‘কোনো নির্দেশনা নেই’ বলে জানিয়েছে মেলা পরিচালনা কমিটি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “মেলার নীতিমালা মেনে সৃজনশীল বই বিক্রি বা প্রদর্শন করতে কোনো বাধা নেই। নির্দিষ্ট কোনো বই নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

সূত্র : বিডিনিউজ২৪ডটকম

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

19 4 24 7

সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট

ঢাকা, রবিবার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ মাসস মাত্র ৪ হাজার টাকার ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার …