
মাস্টারি বিডি | শাহানা তৃণা
ফিচার | ঢাকা | ১৫ আগস্ট ২০১৯ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬
চুপ চুপ ওই ডুব দেয় পানকৌটি
দেয় ডুব চুপ চুপ ঘোমটার বউটি
ছান্দসিক কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এ উচ্চারণের মধ্যদিয়ে পানকৌড়ি পাখির স্বভাবের পরিচয় তুলে ধরেছেন খুব সুন্দরভাবে । গ্রামবাংলায় পানকৌড়ি অতি পরিচিত পাখি। বিল অঞ্চলে এরা বাস করে।

পানকৌড়ির বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Phalacrocorax fuscicollis.। পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ পাখির সারা গা, বুক কুচকুচে কালো, তাতে সামান্য চকচকে আভা। গলায় সাদা একটি দাগ, পাখার নিচের পালক ধূসর রঙের।

পানকৌড়ি উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের পাখি। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এদের দেখা যায়। এখানকার জলবায়ু, নদী, খালবিল এদের প্রিয় বিচরণক্ষেত্র। সময় সময় সমুদ্রের তীরে দেখা গেলেও পানকৌড়ি মিঠা পানির পাখি। বড় পুকুর ও বিল অঞ্চলই এরা বেশি পছন্দ করে। সুন্দরবন অঞ্চলের জোয়ার-ভাটার নদীগুলো এদের খুবই প্রিয়। হাঁসের মতো জলের সাঁতার কাটে। মাছের সন্ধানে এরা পানির অনেক নিচে চলে যায়। ডুবসাঁতারেও এরা পটু। সময় সময় একসঙ্গে অনেক পানকৌড়ি এক সারিতে একই দিকে ডুব দিয়ে দিয়ে চলতে থাকে।

পানকৌড়ির প্রধান খাদ্য ছোট মাছ, তবে কাঁকড়া, ব্যাঙাচি, ব্যাঙ ইত্যাদিও খায়। পানিতে সাঁতার কাটার সময় কোনো বিপদের সম্ভাবনা দেখা দিলে শুধু মাথা এবং গলাটুকু পানির উপর জাগিয়ে রেখে ডুবে থাকতে পারে।

জলনির্ভর জীবনযাপন হওয়ায় এদের সবচেয়ে কম দেখা যাচ্ছে। দেশে হাইব্রিড ধান চাষের চাষ শুরু হওয়ায় সার ও তীব্র বিষসহ কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। বৃষ্টির জলের মাধ্যমে বা বর্ষায় খাল – নদী- হাওর- বিলের জলে মিশে এসব বিষ, জলকে বিষাক্ত করে তোলে। পানকৌড়ি বিলুপ্তির পেছনে এটা সবচে বড় কারণ।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, পাখিশূন্য হয়ে যাচ্ছে দেশ। যা আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য দুঃসংবাদ। এসব প্রাণী যত বিপন্ন হবে পরিবেশ ততই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম