
মাস্টারি বিডি
ঢাকা । ২২ জুলাই ২০১৮ । ০৭ শ্রাবণ ১৪২৫
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল ঘুমের সময়টুকু বাদ দিয়ে দিনের বাকিটা সময় তিনি কেবল মাত্র দেশের উন্নয়ন ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাঁর সম্মানে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় একথা বলেন।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তোরণ, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ, অষ্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ এওয়ার্ড অর্জন এবং আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডিলিট ডিগ্রী’ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই গণসংবর্ধনার আয়োজন করে। জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা পত্র পাঠ করেন। তিনি পরে সেই সম্মাননাপত্র প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার পেয়েছে, এই নৌকায় ভোট দিয়েছে বলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, এই নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে এবং আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, আমরা পরমাণু বিদ্যুৎ ক্লাবে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা স্যাটেলাইট যুগে পৌঁছাতে পেরেছি, আজ বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে এবং দারিদ্র্যের হার আরো হ্রাস করে বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্রমুক্ত করতে পারবো ইনশাল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি দেশকে কিভাবে আমরা উন্নত করবো সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সেই কথা চিন্তা করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন,তাঁর সরকার এই রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট,ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-বরিশাল, পায়রাবন্দর সহ বিভিন্নস্থানে বুলেট ট্রেন (দ্রুতগতির ট্রেন) চালু করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করা হবে।

আকাশ পথে যোগাযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিমানবহর একেবারে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, ইতোমধ্যে নতুন বিমান ক্রয় করা হয়েছে, আরো ৭টা নতুন বিমান আমরা ক্রয় করবো। যা আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করবে।
সেই সাথে সৈয়দপুর বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট,চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আরো উন্নত করবে তাঁর সরকার বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান আর বাকি সময় দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি কোনো উৎসবে যাই না। সারাক্ষণ আমার একটাই চিন্তা- দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন।’

জাতির পিতার কাছ থেকে পাওয়া রাজনৈতিক শিক্ষার আলোকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই তার লক্ষ্য উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু তনয়া বলেন, ‘জাতির পিতার পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো। প্রতিটি গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি গ্রামের মানুষ সকল নাগরিক সুবিধা পাবে । সেভাবেই আমরা গ্রামের মানুষের অবস্থার উন্নতি করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা-দীক্ষায় সব দিক থেকে বাংলার মানুষ উন্নত জীবন পাবে। ক্ষুধা আর হাহাকার থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ উন্নত জীবন পাবে’।
তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘মৃত্যু যখন আসবে তখন মৃত্যু আসবেই। কিন্তু মৃত্যুর আগে আমি মরতে রাজি নই। তার আগে যতক্ষণ জীবন আছে বাংলার মানুষের সেবা করে যাবো।’
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম