…‘ডালিম কুমার’ নিয়ে আমরা টিমের সবাই বেশ আশাবাদী। ভিন্নধর্মী এই ধারাবাহিকটি বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্যে নিবেদিত। তবে সব বয়সের দর্শকের কাছেই এটি ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস। আরেকটি কথা, বিদেশি সিরিজ ‘আলিফ লায়লা’ ‘কিরণমালা’র ভিড়ে এটিই প্রথম একটি দেশি প্রযোজনা। এই চ্যালেঞ্জে আমরা জয়ী হলে আমি মনে করি দেশের জন্যই বেশি লাভ।…

মাস্টারি বিডি ডটকম
শান্তা ইসলাম । ঢাকা । ২৬ জুন ২০১৭ । ১২ আষাঢ় ১৪২৪
প্রতিশ্রুতিশীল বহুমাত্রিক শিল্পী পলাশ লোহ। একাধারে অভিনয়, সঙ্গীত, ছবি আঁকা, মডেলিং ইত্যাদি নিয়ে তিনি মঞ্চে এবং ভিজুয়াল মাধ্যমে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকেন। এবারের ইদুল ফিতর উপলক্ষে তার নাটক, গান ও মডেলিং নিয়ে কিছু কথা এখানে তুলে ধরা হলো।
এবারের ইদে তার সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘ডালিম কুমার’ থাকছে। এটি ইদের দিন সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিটে এনটিভি-তে সম্প্রচারিত হবে। এবং পরাপর সাতদিনে সাত পর্ব দেখানো হবে ধারাবাহিকটি।

পোশাকি নাটক ‘ডালিম কুমার’-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা পলাশ লোহ। ‘ডালিম কুমার’ এবং তার চরিত্র সম্পর্কে তিনি বললেন, বাংলাদেশে এই প্রথম সবচেয়ে ব্যয়বহুল থ্রি-ডি ও ভিএফএফ ইফেক্টে নির্মিত হয়েছে এ ধারাবাহিকটি। এর কস্টিউম অধিকাংশই দেশের বাইরে থেকে আনা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের রূপকথার গল্প নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এটির নির্মাণশৈলী ইউরোপিয়ান ধাচের। অত্যন্ত সেরা সেরা লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে ‘ডালিম কুমার’। আমার চরিত্রটি ডালিম কুমারের বন্ধুর। বেশ বড় একটি ক্যারেক্টার এটি। বেশ মজার এবং অদ্ভুত! ডালিম কুমার-এর সামনে আমি খুব সাহসিকতার ভাব দেখাই। আসলে ভেতরে ভেতরে আমি খুব ভিতু স্বভাবের- তবে আমার বন্ধু ডালিম কুমার বড় বড় বিপর্যয়ে আমাকে অভয় দেন। লিলিপুটের রাজ্য, দৈত্যের রাজ্য এবং পরির রাজ্যে অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। একের পর এক ঘটতে থাকে গা-ছমছম করা সব ঘটনা।
আমাদের দেশে তো এধরনের বহু রূপকথার গল্প নিয়ে সিরিজ চলেছে বিটিভি থেকে শুরু করে অন্যান্য চ্যানেলে। যেমন- আলিফ লায়লা, কিরণমালা, হাতিম তাঈ ইত্যাদি। এগুলোতো বিদেশি এবং ভাস্ট ক্যানভাসে নির্মিত। তো এগুলোর সাথে তুলনা করলে কী দাঁড়ায়? ‘ডালিম কুমার’ কি প্রতিযোগিতায় টিকবে?

এ প্রশ্নের উত্তরে পলাশ বলেন, হ্যাঁ এটি একটি চ্যালেঞ্জ বটে। তবে ‘ডালিম কুমার’ নিয়ে আমরা টিমের সবাই বেশ আশাবাদী। ভিন্নধর্মী এই ধারাবাহিকটি বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্যে নিবেদিত। তবে সব বয়সের দর্শকের কাছেই এটি ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস। আরেকটি কথা, বিদেশি সিরিজ ‘আলিফ লায়লা’ ‘কিরণমালা’র ভিড়ে এটিই প্রথম একটি দেশি প্রযোজনা। এই চ্যালেঞ্জে আমরা জয়ী হলে আমি মনে করি দেশের জন্যই বেশি লাভ। ‘ডালিম কুমার’ ধারাবাহিকে যে শিল্পীদের কাস্ট করা হয়েছে তারা অধিকাংশই থিয়েটার কর্মী। সে কারণে অভিনয়ের ব্যাপারে একটা মান শিশ্চিৎ হবে- এটি আমি বলতে পারি। দর্শকরা খুব বিনোদন পাবে। আরেকটি খুশির খবর, নির্মাণ কর্তৃপক্ষ ‘ডালিম কুমার’-এর প্রমো দেখার সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা ‘ডালিম কুমার-২’ এর জন্যে আমাদের সবাইকে প্রস্তুত হতে বলেছেন।
‘ডালিম কুমার’ পরিচালনা করেছেন- আতিকুর রহমান বেলাল। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- গোলাম কিবরিয়া, তানভীর, তানজিন তিশা, পলাশ লোহ, আবিদ রায়হান, সাইয়েদা শিলা, শাখাওয়াত শিমুল, তন্ময় প্রমুখ।
এবারের ইদে ‘বন্ধন’ নামে একটি শর্ট ফিল্ম যাচ্ছে পলাশ লোহ-এর। ২০ মিনিট ব্যাপ্তির এ শর্ট ফিল্মটির কাহিনীকার ও পরিচালক এস আই নাট্য। এতে পলাশের বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা চমকতারা।

শর্ট ফিল্ম ‘বন্ধন’-এর ব্যাপারে পলাশ বলেন, আনকমন একটি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে শর্ট ফিল্মটি। একটি বোকাসোকা ছেলে ও একটি চালাক চতুর পকেটমার মেয়ের প্রেমকে ঘিরে কাহিনী এগিয়েছে। আমার কো-আর্টিস্ট চমকতারা থাকেন একজন পকেটমার। মেয়েটির এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে ভাল পথে নিয়ে আসার জন্যে তার পাশে আমাকে দাঁড়াতে হয়। আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি- শর্ট ফিল্মটি দর্শকদের ভাল লাগবে।
মাইটিভি অথবা মোহনা-তে যেতে পারে ফিল্মটি।

অভিনয়, সঙ্গীত ও পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি পলাশ লোহ মডেলিংও করে থাকেন। এবারের ইদে স্বনামধন্য বেশ কটি ফ্যাশন হাউজের পোশাকের মডেল হয়েছেন তিনি। তার মধ্যে রয়েছে- সেলাইঘর, রাইট চয়েজ, কিডো ম্যান ডটকম, মিস্টার প্রাইজ। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবির মডেল হয়েছেন তিনি।
অতি সম্প্রতি বাবা দিবস উপলক্ষে পলাশ লোহ-এর একটি মিক্সড অডিও সিডি বাজারে এসেছে। সিডিটির নাম ‘বাবার দেয়া ঘুড়ি’। এতে ‘মাটির সোদা গন্ধ আমায়…’ শিরোনামের গানটি করেছেন পলাশ। গানটির কথা লিখেছেন- গোলাম মোর্শেদ, সুর ও সঙ্গীত বাসু।

এবারের ইদ কিভাবে কাটাবেন?
এ প্রশ্নের জবাবে পলাশ লোহ বলেন, বরাবরের মতো এবারও আমি গ্রামের বাড়ি গফরগাঁওয়ে ইদ করবো। ইদের দিন সকালে উঠে দেখবো প্রতিবেশীরা শিমাই, পায়েশ, মাংস, পোলাও ইত্যাদি ভালো ভালো খাবার পাঠিয়েছেন। প্রথমে মজা করে সেগুলো খাবো। তারপর বন্ধুদের নিয়ে বের হবো ঘুরতে। বিশেষ করে এই ইদেই একসময়ের সহপাঠী বন্ধুরা এবং শৈশব কৈশর ও তারুণ্যের খেলার সাথী বন্ধুরা একসাথে মিলিত হতে পারি। পূজা কিংবা কোরবানীর ইদেও যেটি সম্ভব হয় না। ফলে এই ইদকে ঘিরে বেশ আনন্দ হয়। আরেকটি মজার ব্যাপার, ইদের পরের দিন ভোরে আমাদের মাঠে বিবাহিত বনাম অবিবাহিত ফুটবল খেলার একটি আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা হয়। এতে প্রতিবারই অবিবাহিত দল জয়লাভ করে। আমি অবিবাহিত দলে খেলে থাকি। দারুণ উপভোগ্য খেলা এটি। আর ইদের দিন আমি আমার অভিনীত নাটকসহ অন্যান্য নাটক দেখবো। এছাড়া, গফরগাঁও শহর থেকেও বন্ধুরা আসে। ইদ উপলক্ষে বিভিন্ন মঞ্চে সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়। আয়োজকদের অনুরোধে সেখানে আমার গান গাইতে হয়। এককথায় ইদ কাটবে আমার মহা আনন্দে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম