Home / অপরাধ / বাল্যবিবাহের দায়ে যে শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামী এবং কাজীর
1 4 26 5

বাল্যবিবাহের দায়ে যে শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামী এবং কাজীর

ঢাকা, বুধবার ০১ এপ্রিল ২০২৬ মাসস

বাংলাদেশের ছোট পর্দার একসময়ের জনপ্রিয় মুখ আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা। আগেই তিনি শোবিজের গ্ল্যামার জগতকে বিদায় জানিয়েছেন। এবার জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন তিনি।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন সিমরিন লুবাবা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের খবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি নিজেই।

তবে অনেকের অভিযোগ, বাল্যবিবাহ করেছেন লুবাবা। তাকে ১৫-১৬ বছরের কিশোরী দাবি করে এ অভিযোগ আনা হচ্ছে। কেননা বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কন্যার বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হয়। এ সব বিষয় নিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি লুবাবা কিংবা তার পরিবার।

একটি সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে লুবাবা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালেও স্কুলছাত্রী ছিলেন লুবাবা। এসব তথ্য ধরে গণনা করলেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স হয়নি লুবাবার।

তিনি আরও বলেন, ‘কন্যার বয়স ১৮-এর নিচে থাকলে কাজী বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। আর কাজীর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত বৈধ না। তবে যদি কাজী যদি ১৮ বছরের নিচের কোনো কন্যার বিয়ে নিবন্ধন করেন তবে তার লাইসেন্স বাতিল হবে। এ অপরাধে অনেক কাজীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কেননা ১৯৬১ সালের আইন অনুযায়ী কন্যার বয়স ১৮ হতেই হবে। আর কোর্ট স্ট্যাম্পে যে বিয়ে হয় সেটা কোনো ভ্যালিড বিয়ে না।’

আইনজীবীর ভাষ্য, যদি কেউ বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হয় তাহলে সে বাংলাদেশে আইন মানতে বাধ্য। দেশের বাইরে কোনো স্ট্যাম্পে সাইন করে বিয়ে করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সেটি বৈধ বিয়ে না, লিভ টুগেদার বলে গণ্য হবে।

সেখানে বাল্যবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের শাস্তি সম্পর্কে আইনে বলা আছে-

(১) আদালত, স্ব-উদ্যোগে বা কোন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, যদি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, কোন বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে অথবা বাল্যবিবাহ অত্যাসন্ন তাহা হইলে আদালত উক্ত বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিতে পারিবে।

(২) আদালত স্বেচ্ছায় বা অভিযোগকারী ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

(১) এর অধীন আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করিলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ১ (এক) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

বাল্যবিবাহ নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি নিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ধারা ৫ এর অধীন মিথ্যা অভিযোগ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ১ (এক) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

আর বাল্যবিবাহের শাস্তি হিসেবে বলা আছে প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। অর্থাৎ লুবাবার স্বামী প্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার দুই বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। জরিমানা না দিতে পারলে আরও তিন মাস বেশি কারাবাস হবে।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করিলে তিনি অনধিক ১ (এক) মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য হইবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৮ এর অধীন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা দণ্ড প্রদান করা হইলে উক্তরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষকে শাস্তি প্রদান করা যাইবে না।

অর্থাৎ বাল্য বিবাহের দায়ে লুবাবার শাস্তি হলে সেটা সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

সূত্র : জাগো নিউজ

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 5 26 8888

হারলো পাকিস্তান

ঢাকা, মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ মাসস টেস্ট ক্রিকেটের মজা বোধহয় এমনই হয়। চার দিন ধরে খেলা …