Home / জাতীয় / বাংলাদেশের ‘প্রথম ব্র্যান্ডিং’!
pm+wef+Davos-+mbd

বাংলাদেশের ‘প্রথম ব্র্যান্ডিং’!

মাস্টারি বিডি ডটকম
ডাভোস । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ০৬ মাঘ ১৪২৩

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব প্রেক্ষাপটে একটি ভিন্ন মাত্রায়, নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল বলে সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে।

ধনী ও ক্ষমতাধরদের আলোচনা সভা হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে চলমান এই সম্মেলনে এবারই প্রথম বাংলাদেশের নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রীকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লস সয়াব। এর আগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অংশ নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বিশ্বে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার পরামর্শ দেন ফোরাম প্রধান ক্লস সয়াব।

ডাভোস ফোরামে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই ‘ব্র্যান্ডিংয়ের প্রথম কাজটা’ হয়ে গেল বলে মনে করছেন সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধ শামীম আহসান।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভার কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা
সুইজারল্যান্ডের আল্পস রিসোর্ট শহর দাভোসে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া চারদিনের এ বৈঠক চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এবারের সম্মেলনে অর্ধশতাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলনে দুই দিন বিভিন্ন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বক্তব্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষাতের পর বুধবার পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডাভোসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটা ভিন্ন লেভেলে চলে গেল।

এই দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ডাভোসে প্রধানমন্ত্রী আসার সাথে সাথে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের ফোকাস এসেছে। এখন বাংলাদেশকে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রাডারের মধ্যে রেখে বড় বড় কোম্পানি, বড় বড় দেশ চিন্তা করবে- বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য খুব ভালো জায়গা।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ডাভোস এরকম একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে সরকারি, বেসরকারি, সিভিল সোসাইটি সবাই মিলে ঠিক করে যে, ‘পৃথিবী ১০, ১৫, ২০ বছর পরে কী রকম হবে’।

এতদিন পরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি, অগ্রগতি, সাফল্য-এই সব কিছু মিলিয়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাভোসে আগমন।

ডাভোস কংগ্রেস সেন্টারে বুধবার পানি নিয়ে এক অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারগর্ভ বক্তব্য দেন।

পানি ব্যবস্থাপনা, তৈরি পোশাক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়ে ডাভোস ফোরামের বিভিন্ন সেশনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা কয়েকটি সেশনে বক্তব্য দিয়েছেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ফোরামে সমসাময়িককালের অর্থনৈতিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ে আলোচনা হয়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগদান করে বাংলাদেশের সমস্যাগুলি যেমন তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তুলে ধরছেন, তেমনি বিশ্ব নেতার কাতারে দাঁড়িয়ে সারা পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করার জন্য কী করা উচিৎ সেই মতামতগুলোও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব আবুল কালাম আজাদও কয়েকটি সেশনে অংশ নিয়েছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এসে বাংলাদেশের অগ্রগতির খবর পেয়েছেন বলে জানান তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশু দিন (সোমবার) বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইনডিকেটর বা র‌্যাংক ঘোষণা করা হয়েছে। খুবই গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান ৩৬তম। সুষম উন্নয়নে বাংলাদেশ এত অল্প সময়ে এটা অর্জন করেছে, ‘এটা ম্যাজিক’। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়া সকল নেতৃবৃন্দকে আকৃষ্ট করেছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লস সয়াবও বাংলাদেশের বিষয়ে খুব ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন কূটনীতিক শামীম আহসান।

তিনি বলেন, গতকাল সয়াবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ওই কথাটি প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

শামীম বলেন, আরেকটি কথা উনি বলেছেন, বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীতে আপনারা যেভাবে পরিচিত করেছেন সেটাকে আমরা ব্র্যান্ডিং বলতে চাই। এই ব্র্যান্ডিংটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম যদি কিছু করতে পারে তাহলে তারা অত্যন্ত খুশি মনে সেটা করবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম যেমন বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলকেন্দ্রিক ফোরাম আয়োজন করে থাকে তেমনি বাংলাদেশকেন্দ্রিক একটি ফোরাম আয়োজনের প্রস্তাব সয়াব অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা এখন আশা করতে পারি এরকম একটি সম্মেলন অচিরেই বাংলাদেশে হবে এবং তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং আরও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছবে।

তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন সেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং করতে এবারের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারছি।

প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্যে : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 5 26 8888

হারলো পাকিস্তান

ঢাকা, মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ মাসস টেস্ট ক্রিকেটের মজা বোধহয় এমনই হয়। চার দিন ধরে খেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.