মাস্টারি বিডি । জাকারিয়া তুষার
ফিচার । ঢাকা । ১১ মে ২০১৯ । ২৮ বৈশাখ ১৪২৬
একটা সময় গ্রাম গঞ্জ শহর সর্বত্রই বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এই আয়োজনগুলো ছিলো এত অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দমুখর- যা বলে শেষ করা যাবে না। বহু ধরনের খেলাধুলা সে আয়োজনে ঠাঁই পেতো। তার মধ্যে অনেক বৈচিত্র্যও ছিলো। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে শরীরচর্চা যেমন হতো তেমনি হতো নির্মল বিনোদনও।

দৌড়, দীর্ঘ লম্ফ, উচ্চ লম্ফ, মোরগ লড়াই, সুঁইগাঁথা, বেতলাফ, চেয়ারসিটিং, বালিশ খেলা, বিস্কুট দৌড়, চামিচমুখে দৌড়, যেমন খুশি তেমন সাজো ইত্যাদি খেলার প্রতিযোগিতা হতো। এসব খেলায় এরকম টানটান উত্তেজনা দেখা যেতো যে, সববয়সের মানুষ তা দারুণভাবে উপভোগ করতো।

এরমধ্যে যেমন খুশি সাজো খেলাটি ছিলো অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এ বিষয়ের উপর কেউ ডাকপিয়ন সাজতো, কেউ কেউ বর-বধূ সাজতো, শরীরে কাদা মাখিয়ে কেউবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজতো, এভাবে কৃষক, পরিষ্কারকর্মী, ভূত-প্রেত, দানব, ভিখারি, বুড়োবুড়ি, শিক্ষক, জেলে, চিকিৎসক, ভাড়সহ নানা বিচিত্র সাজে সেজে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতো, ছোটরা হৈচৈ করে এসব উপভোগ করতো।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এইসব সৃজনশীল বিনোদন আজ হারাতে বসেছে। কিন্তু এসব হারানো মানে তো, আমাদের শেকড় থেকে বিচ্যুৎ হওয়া এক অর্থে। তাই নতুন করে উদ্যোগ নিতে হবে এসব খেলাধুলা বিদ্যালয়গুলোতে ফিরিয়ে আনার। তাতে করে আমাদের আজকের দিনের শিশুরা আরো বেশি সৃজনশীল ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠবে।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম
