Home / আবহওয়া / কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে বিপাকে ২৫ হাজার পর্যটক
131

কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে বিপাকে ২৫ হাজার পর্যটক

ঢাকা, শুক্রবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

অবিরাম ভারি বর্ষণে এক প্রকার তলিয়ে গেছে কক্সবাজার। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পর্যটন শহর কক্সবাজারের প্রচুর সংখ্যক বাসিন্দা। সেইসঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েছেন অন্তত ২৫ হাজার পর্যটক। বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট সয়লাব হওয়ায় অনেক পর্যটক হোটেল কক্ষে আটকা পড়েছেন।

এ ছাড়াও বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৯ টি উপজেলার অন্তত ২০ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।গত বুধবার থেকে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। পর্যটন শহরটিতে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বিহীন অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সয়লাব হয়ে পড়ে রাস্তা ও অলিগলি।
শহরটির প্রধান সড়ক ও সাগর পাড়ের কলাতলি এলাকা সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। এমন অবস্থায় শহরের বাসিন্দারা যেমনি বাসা-বাড়ির বাইরে যাতায়াত করতে পারছেন না, তেমনি পর্যটকরাও মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।কক্সবাজারে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ তোফায়েল হোসেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা থেকে শুক্রবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে এটি একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালের ২৪ জুন একদিনে ৪৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।ভারি বর্ষণে কক্সবাজার শহরের কমপক্ষে ২০ টি সড়ক ও উপসড়কসহ গলি হাঁটু এবং কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্ষণের পানিতে দফায় দফায় কোমর পানিতে ডুবে গেছে সাগর পাড়ের কলাতলি সড়কটি। এ সড়কেই বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলে উঠেন পর্যটক।
সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হোটেলে কক্ষেই আটকা পড়েন অনেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ।

সাগর পাড়ের হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের মহা ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, হোটেলটির ২৫ টি কক্ষে ৫০/৬০ জন পর্যটক রয়েছেন। টানা বর্ষণের কারণে হোটেলের সামনের রাস্তাটি জলাবদ্ধ থাকায় অনেক পর্যটক কক্ষেই সময় কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি জানান, সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেল জোনে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় একটুখানি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা কাজী শাহাবুদ্দিন নামের একজন পর্যটক ক্ষোখ প্রকাশ করে বলেন- ‘একদম অপরিকল্পিত একটি পর্যটন শহর এটি। একটুখানি বৃষ্টি হলেই হোটেল থেকেও বের হওয়া যায় না। এখানে পানি নিষ্কাশনেরও তেমন ব্যবস্থা নেই।’

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন- ‘সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটির দিনের প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় অনেক পর্যটক এসেছে। তাদের অনেকেই আবার ফিরেও গেছে। এখনো কমপক্ষে ২৫ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে।’

তিনি জানান, এসব পর্যটকের বেশির ভাগই হোটেল কক্ষে আটকাবস্থায় সময় পার করছেন। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন। এখানে সড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এদিকে মৌসুমের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে গত দু’দিন ধরে কক্সবাজার শহর ছাড়াও জেলার ৯ টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার। মৌসুমী বায়ুর প্রবাহে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে সেন্টমার্টিনসহ দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায়। বৃষ্টির পানিতে উখিয়া, টেকনাফ, রামু, কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে রয়েছেন।

কালের কণ্ঠ

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …