Home / অর্থনীতি / হালদায় দেখা মিললো ‘সাদা সোনা’ খ্যাত মাছের ডিম
Halda

হালদায় দেখা মিললো ‘সাদা সোনা’ খ্যাত মাছের ডিম

ঢাকা, শনিবার ৩১ মে ২০২৫মাসস

Hal 1

হালদা তীরে দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ডিম সংগ্রহ শেষে খুশি সংগ্রহকারীরা। প্রাথমিক হিসেবে এবার সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কেজি।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী থেকে ১৪ হাজার কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় ৫৫০ জন স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারী আড়াইশটি নৌকায় এসব ডিম সংগ্রহ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরীয়া ও রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আলমগীর হোসেন।

সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত ২টা থেকে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করলে হালদায় রুই জাতীয় ব্রুড মাছগুলো ডিম দিতে শুরু করে। রাত ৪টা থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করেন।

এতে হালদা নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ বইছে। স্থানীয় শতশত মানুষ মাথায় ছাতা দিয়ে ডিম সংগ্রহ দেখতে আসেন। নদীর পাড়ের প্রায় ৫৫০ জন ডিম সংগ্রহকারী প্রায় ২৫০টি নৌকা নিয়ে উৎসবের সঙ্গে ডিম সংগ্রহ করছেন। এ বছর প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগৃহীত হয়েছে। নদীর মদুনা ঘাট ছায়ার চর, রামদাস মুন্সিরহাট, আমতুয়া, নাপিতার গোনা, আজিমের ঘাট, মাচুয়া গোনা, কাগতিয়া, আইডিএফ হ্যাচারি, সিপাহী ঘাট, নোয়াহাট, কেরামতালির বাক এবং অঙ্কুরিগোনা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করতে পেরে অনেক ডিম সংগ্রহকারীরা খুবই খুশি। অনেকে প্রতি নৌকায় গড়ে ৫-৬ বালতি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন নদীর পাড়ে স্থাপিত সরকারি ও বেসরকারি হ্যাচারী এবং ট্রেডিশনাল মাটির কুয়াগুলোতে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিমের পরিস্ফুটনে ব্যস্ত সময় পার করছে। নদীতে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নৌ পুলিশ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি যৌথভাবে ডিম সংগ্রহের তথ্য সংগ্রহ এবং নদীর সার্বিক পরিবেশ মনিটরিং করছে।

জানা গেছে, এর আগে অন্তত দুই দফা নমুনা ডিম ছেড়েছিল মা মাছ। গবেষকরা জানান, বছরের এপ্রিল থেকে জুনের যেকোনো সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়ে থাকে। তবে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথি অথবা জো না থাকলে ডিম দেয় না মা মাছ। শুধু তাই নয় একই সময়ে নদীর স্থানীয় এবং খাগড়াছড়ি, মানিকছড়িসহ নদীর উজানে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে হবে। এসময় নদীতে পাহাড়ি ঢল নামবে এবং নদীতে ফেনাসহ পানি প্রবাহিত হবে। ঠিক এই সময়ে পূর্ণ জোয়ার শেষে অথবা পূর্ণ ভাটা শেষে পানি যখন স্থির হয়, তখনই কেবল মা মাছ ডিম ছাড়ে।

রাউজান উপজেলা মৎস অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সকল তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে প্রাপ্ত ডিমের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কেজি দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে অন্তত দুই দফা নমুনা ডিম ছেড়েছিল মা মাছ। গবেষকরা জানান, বছরের এপ্রিল থেকে জুনের যেকোনো সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়ে থাকে। তবে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথি অথবা জো না থাকলে ডিম দেয় না মা মাছ। শুধু তাই নয় একই সময়ে নদীর স্থানীয় এবং খাগড়াছড়ি, মানিকছড়িসহ নদীর উজানে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে হবে। এসময় নদীতে পাহাড়ি ঢল নামবে এবং নদীতে ফেনাসহ পানি প্রবাহিত হবে। ঠিক এই সময়ে পূর্ণ জোয়ার শেষে অথবা পূর্ণ ভাটা শেষে পানি যখন স্থির হয়, তখনই কেবল মা মাছ ডিম ছাড়ে।

জানা যায়, কয়েকদিন আগে থেকে হালদা পাড়ের প্রায় ৫ শতাধিক জেলে ডিম সংগ্রহের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাই মা মাছও ডিম ছাড়েনি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়ে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ডিম সংগ্রহ শুরু হয়। হালদা নদীটি খাগড়াছড়ির জেলার বাটনাতলী পাহাড় থেকে নেমে ১০৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিলেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে। দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই নদীর সুরক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। হালদা নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়া স্থানীয় মাছ চাষ, স্থানীয়দের জীবন জীবিকার মানোন্নয়ন, এতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় মৎস্য প্রজননে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 26 244

২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার বিচার

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মাসস ২৫ বছর আগে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার …