ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১ | মাস্টারি সংবাদ
তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করে দেব। আমরা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকে করে দেব।”
আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষাকাল এক বছরের পরিবর্তে দুই বছরের করার ভাবনার কথা জানান সরকারপ্রধান।
“প্রি প্রাইমারি এক বছরের জন্য, সেটা আমরা দুই বছর করতে চাচ্ছি। সেখানে পড়াশোনা না, বাচ্চারা যাবে একসাথে বন্ধু বান্ধবের সাথে বসবে, খেলাধুলা করবে। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদেরকে তৈরি করে নেব।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সার্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। শুধু কিতাবি বই পড়ে না, শিশুদের ভিতরে যে মেধা-মনন, সেগুলো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।
“তাদের ভিতরে যে পড়ার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হতে পারে- সেই সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিক প্রযুক্তিতে নিয়ে আসছি।”
স্কুলের বিস্কুট বিতরণ কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, “স্কুল ফিডিং কার্যক্রমটা কমিউনিটিভিত্তিক করতে হবে। পুষ্টিকর বিস্কুটের স্বাদে চকোলেট-ভ্যানিলা ফ্লেভার দিতে বলেছি।
“স্কুলে যে বিস্কুট দেয়, সেটাতে কোনো টেস্ট ছিল না তেমন। বাচ্চারা সেটা খেতেও একঘেঁয়েমি বোধ করত। নিজে টেস্ট করে- আমি এ বিস্কুটের স্বাদ বদলানোর নির্দেশ দিয়েছি।”
শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ১৫ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “’৮১ সালে বাংলাদেশের যে অবস্থা দেখেছিলাম, সেখান থেকে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এজন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের ভোট দিয়ে বারবার নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ এর সময় যখন লেখাপড়ার জন্য বিদ্যালয়ে যাবার সুযোগ ছিল না তখন তাঁর সরকার অনলাইন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। এখন প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে সাবমেরিন কেবল এবং সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ায় ও ব্রডব্যান্ড সংযোগ এবং মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপনের ফলে সারাদেশে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি চালু হয়ে গেছে। সে কারণে প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে বিশ^কে জানার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, ‘শুধু বই পড়ে নয়, স্বচক্ষে দেখে শিক্ষা নিতে হবে। এই ছোট্টবেলা থেকে যতবেশি তারা শিখতে পারবে ততই ভালো। আর ছোটদের খুব বেশি শিখতে হয় না তারা সহজেই পেরে যায়, এটা হলো বাস্তবতা।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলবো সবাইকে এইভাবে এক হয়ে কাজ করলে এই দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের মাঝে প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৩ তুলে দেন।
সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম