মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ০৮ ফাল্গুন ১৪২৩
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে আজ সোমবার তাদের দুইজন সাবেক কর্মকর্তার ব্যবহৃত দুইটি গাড়ি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে হস্তান্তর করেছে।
রোববার বেলা ১১ টায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস হতে গাড়ি দুইটি শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান স্বাক্ষরিত পত্র মারফত বিশ্বব্যাংকের পক্ষে গাড়ি দুইটি আজ সকালে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। গাড়ি দুইটি বর্তমানে শুল্ক গোয়েন্দার সদর দফতরের হেফাজতে রয়েছে।
কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই করে গাড়ি দুইটির বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গাড়ি দুইটির ব্যবহারকারী ছিলেন ফিনল্যান্ডের নাগরিক মির্ভা তুলিয়া এবং ভারতীয় মৃদুলা সিং। মির্ভা তুলিয়া অক্টোবর ২০১২ হতে আগস্ট ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে কমিউনিকেশনস স্পেশালিস্ট হিসেবে এবং মৃদুলা সিং মার্চ ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে সিনিয়র সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সময় তারা ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই গাড়ি দুইটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় ক্রয় করেন।
মির্ভা তুলিয়ার (কাস্টমস পাশবুক নম্বর ৭১/২০১১) ব্যবহৃত টয়োটা আরএভি-৪ মডেলে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর: এজেবি-০৭১ এবং মৃদুলা সিং (কাস্টমস পাশবুক নম্বর ৩৩/২০১৩) ব্যবহুত টয়োটা প্রিমো মড়েলের গাড়ির নিবন্ধন নম্বর: এজেবি-০০৯২।
মির্ভা তুলিয়া ২০১৬ সালের ডিসেম্বর এবং মৃদুলা সিং ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে তাদের এ্যাসাইমেন্ট শেষ করে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।
মইনুল খান বলেন, আইনানুযায়ী তারা বাংলাদেশ ত্যাগের পূর্বে তাদের ব্যবহৃত কাস্টমস পাশবুক ও তাদের ব্যবহৃত গাড়ি দুইটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে যাননি। এর প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক বরাবর এ ধরনের ১৬টি গাড়ির তথ্য চেয়ে গত ১৫ জানুয়ারি পত্র দেয়া হয়। মনে করছি সেই পত্র পেয়ে প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে কান্ট্রি ডিরেক্টর দুইটি গাড়ি হস্তান্তর করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী যেসব দাতা সংস্থা বা বিদেশি নাগরিক শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবেন, তাঁরা তাঁদের কাজ শেষ হওয়ার আগে তা শুল্ক কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেন। অথবা এই গাড়িগুলো একই মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করতে পারেন। অথবা শুল্ক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিলামও করতে পারবেন। তবে এসব ক্ষেত্রে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এ ছাড়া দেশীয় কারও কাছে বিক্রি করলে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে এবং শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে। এই গাড়ি দুইটির ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয়নি।
এদিকে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবহার করা ১৬টি গাড়ির বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে গতকাল বিশ্বব্যাংক আবাসিক কার্যালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম