..কালজয়ী চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ছবিতে বাংলার গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণির দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হালও অনেকটা ফুটে উঠেছে। তাঁর ছবিগুলোতে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।…

মাস্টারি বিডি । আর কে রাজ
নড়াইল । ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । ২২ ভাদ্র ১৪২৫
চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষে নড়াইলে তিন দিনব্যাপী সুলতান উৎসব চলছে।

আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বুধবার সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুস সবুর খান, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, আসাদ রহমান প্রমুখ।
রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যের ৫০টি স্টল বসেছে।

আগামীকাল শুক্রবার সুলতান উৎসবের সমাপনী দিন। এদিন শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও মুন্সী ওয়ালিউর রহমান পদক প্রদান অনুষ্ঠিত হবে।
সুলতান উৎসবের আয়োজন করেছে এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যৌথভাবে।

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার বেলা ২ টায় সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া।

জানা যায়, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ থেকে ২০টি নৌকা অংশগ্রহণ করবে। নারী মাল্লাদের পরিচালনায় ৪টি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।
এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর এ মহান শিল্পীকে নড়াইলে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

কালজয়ী চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ছবিতে বাংলার গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণির দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হালও অনেকটা ফুটে উঠেছে। তাঁর ছবিগুলোতে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
তিনি ছিলেন একজন সুর সাধক এবং বাঁশিও বাজাতেন।

চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম