মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৭ অক্টোবর ২০১৬ । ০২ কার্তিক ১৪২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন। সোমবার তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীকে এ সময় বিমান বন্দরে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারি ও বেসরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অভ্যর্থনা জানান।
এর আগে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গোয়া থেকে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭ টা ১০ মিনিটে রওনা হন তিনি। এসময় গোয়ায় ভারতীয় নৌ-বাহিনীর বিমান ঘাঁটিতে শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর, গোয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আলিনা সালদানহা, গোয়া সরকারের সচিব (কোঅর্ডিনেশন) পদ্মা জেসওয়াল, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, দিল্লীতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার সামিনা নাজ।

শেখ হাসিনা গোয়া নেভাল বেইজ এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর তাঁর সম্মানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রদর্শনী। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানায় এবং লাল গালিচায় হেঁটে বিমানে ওঠেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোববার বিমসটেক লিডারস রিট্রিট এবং ব্রিকস-বিমসটেক লিডারস আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের থিম ছিলো- ‘ব্রিকস-বিমসটেক : একটি অংশীদারিত্বের সুযোগ’।
রোববার সকালে শেখ হাসিনা গোয়ায় পৌঁছানোর পর বাংলায় টুইট করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সেখানে তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার আতিথেয়তা গ্রহণ করায় আমি সম্মানিত। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য আপনার ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানাই।
এর আগে গোয়ায় পৌঁছেই রোববার দুপুরে বিসমটেক নেতাদের সম্মানে রজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত পারসেকরের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন শেখ হাসিনা।
আউটরিচ সামিটের আগে বিকালে তিনি অংশ নেন বিমসটেক নেতাদের রিট্রিটে। সেখানে তিনি এ জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।
এরপর তিনি ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে অংশ নেন। এই বৈঠকে শেখ হাসিনা বিমসটেক দেশগুলোতে মানসম্পন্ন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে ব্রিকসের তহবিল চান এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ব্রিকস দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দুই জোটের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

দুই বৈঠকেই উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সকল ধরনের ও পর্যায়ের সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করতে বিমসটেক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের উত্থান মোকাবেলা, তাদের পরামর্শদাতা, পরিকল্পনাকারি, মদদদাতা, অর্থায়নকারি, অস্ত্র সরবরাহকারি ও প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বিমসটেক-এর আওতায় আমরা সহযোগিতা জোরদারে সক্ষম হবো।’
তিনি বিমসটেক আউটরিচ সামিটে তাঁর ভাষণে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে বলেন, দেশীয় সন্ত্রাসীদের সংহতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যুবসমাজ, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকার গৃহিত গণসচেতনতা কর্মসূচি সফল হয়েছে।
শেখ হাসিনা ২০০৪ সালে আলোচিত বিমসটেক অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘এফটিএ বাস্তবায়নের স্বপক্ষে আমাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করা প্রয়োজন। কেননা তা আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং বিমসটেক-এর কার্যক্রম ও কর্মসূচি বৃদ্ধি করবে। আগামী বছর বিমসটেক-এর দুইদশক পূর্তির সময়ে এফটিএ-সম্পর্কিত চারটি চুক্তি চুড়ান্ত অনুমোদনের ব্যাপারে আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারি।’
তিনি বলেন, বিগত দুইদশকে দুইটি ফোরামকে সংযুক্ত করার উদ্যোগে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বোধগম্যভাবেই, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে ধীরে কিন্তু ভিত্তি সম্পন্ন হয়েছে। কাজেই সংহতির পথে অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার এখনই সময়।’
ব্রিকস এবং বিসমটেক আউটরিচ সামিট পরবর্তী নৈশভোজে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে উন্নয়নের প্রশ্নে একে অন্যের পাশেথাকার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন দুই প্রতিবেশী দেশের দুই নেতা।

গোয়ায় পাঁচ জাতির জোট ব্রিকসের অষ্টম সম্মেলন শুরু হয় শনিবার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল টেমের, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আউটরিচ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্রিকসের সঙ্গে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের বসার সুযোগ করে দেয় নয়া দিল্লি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অং সান সু চি আউটরিচ সামিটে অংশ নেন।
‘এবারের ব্রিকস সম্মেলন যতটা না ছিল বাণিজ্যিক, তার চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে সামনে এনেছেন’ – রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা উঠে আসে।
সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান বাদে অন্য সব দেশের নেতারাই এক হয়েছিলেন এ সম্মেলনে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম