মাস্টারি সংবাদ | শান্তা ইসলাম।
নারী | ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
দেশে নারী প্রধান বিচারপতি না থাকার বিষয়ে নিজের আফসোসের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন শেখ হাসিনা।
নিজের আফসোসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটা আফসোস রয়ে গেছে আমার, আমার খুব ইচ্ছে ছিল, প্রধান বিচারপতি একজন নারীকে আমি করে যাব। কিন্তু আমাদের সমাজ এত বেশি কনজারভেটিভ, এগুলো ভাঙতে সময় লাগে। সেজন্য করতে পারেনি। এ আফসোসটা থেকে গেল।”
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে দেশে নারীদের বিচারক হওয়ায় আইনি বাধা ছিল। জাতির পিতার উদ্যোগে এই আইনি বাধা উঠে গেলে নিম্ন আদালতে প্রথম নারী বিচারপতি হন নাজমুন আরা সুলতানা। তার সরকার পরবর্তীতে নাজমুন আরাকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন নারীকে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
ওই অনুষ্ঠনে দেশের বিচার বিভাগে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীর অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, এটাই ছিল পাকিস্তানের আইন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সমস্ত আইনগুলো পরিবর্তন করেন, এই আইন পরিবর্তনের পর আমাদের দেশের মেয়েরা জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিতে পারেন।
“আমি সরকারে এসে দেখি আমাদের উচ্চ আদালতে কোনো নারী জজ নেই। তখন আমি উদ্যোগ নিলাম, তখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলেছি, প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছি, আইনমন্ত্রীকে বলেছি- উচ্চ আদালতে কোনো জজ নিয়োগ দেওয়া হলে যদি কোনো নারী জজের নাম না থাকে, আমি কখনও ওই ফাইল সই করব না, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব না। সেই থেকে যাত্রা শুরু।”
কর্মক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “মেয়েরা রাজনীতিতেও আছে, অর্থনীতিতে আছে, পররাষ্ট্রনীতিতে আছে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে.. সশস্ত্র বাহিনী, সেই সঙ্গে বর্ডার গার্ড সব ক্ষেত্রে কিন্তু নারীদের প্রবেশ সুযোগ আছে এবং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সাংবাদিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা সব ক্ষেত্রে এখন মেয়েরা তাদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, এশিয়ার শীর্ষে এখন বাংলাদেশের নারীরা, সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে গর্বের বিষয়।”
নারী-পুরুষ সবাইকে সমানভাবে এগিয়ে নিতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে নারী-পুরুষ সবাইকে সমানভাবে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আমাদের ছেলে-মেয়ে উভয়ই যেন সমানভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে ব্যবস্থা নিয়ে, সব পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।”
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম