Home / জাতীয় / প্রধানমন্ত্রীর সফরে হাওড় এলাকার জনগণের মনোবল বেড়েছে
pm+hawor+mbd-f

প্রধানমন্ত্রীর সফরে হাওড় এলাকার জনগণের মনোবল বেড়েছে

মাস্টারি বিডি ডটকম
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) । ০১ মে ২০১৭ । ১৮ বৈশাখ ১৪২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের ফলে বন্যাদুর্গত হাওড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তারা বলেন, হাওড় এলাকায় প্রায় প্রতি বছর অথবা দু’এক বছর পরপরই ছোটখাটো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে, যা মোকাবেলা করে স্থানীয় অধিবাসীরা অভ্যস্থ। কিন্তু এবারের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় তারা একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের অতীতের সব অভিজ্ঞতা ও কৌশলই ব্যর্থ হয়েছে।

pm+hawor+mbd-4
এবারের বন্যায় তাদের উৎপাদিত বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান, যা তাদের গ্রাসাচ্ছাদন ও নগদ অর্থ প্রাপ্তির একমাত্র অবলম্বন তা একেবারেই ধ্বংশ হয়ে যাওয়ায় তারা আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলে।

এই এলাকার ৯১ বছর বয়স্ক মোহিম দাস বলেন, ‘খাদ্য ও জীবিকার ক্ষতির কারণে আমরা হতাশার জলের মধ্যে’ সাঁতার কাটছি। আমরা আগামী বছর নাগাদ আশাব্যঞ্জ কিছু দেখতে পাচ্ছি না।’

pm+hawor+mbd-2তবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করেছেন তার চেয়ে এই এলাকায় তাঁর এই সফর তাৎক্ষণিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল বাড়ানোর ক্ষেত্রে সমান বা সম্ভবত আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বৃদ্ধা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিলেন। এপ্রিলের প্রথম দিকে আকস্মিক বন্যা হাওড় এলাকায় আঘাত হানার পরে আমি এই প্রথমবারের মতো প্রতিবেশীদের হাসি মুখ দেখতে পেয়েছি এবং আমিও গত এক মাসের মধ্যে এই প্রথমবার হেসেছি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দুর্দশার কথা জানতে শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজে এবং তার সরকার বন্যার ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সম্ভাব্য সব রকমের সহায়তা দেবে।

সহায়তাগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়েরর জন্য কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, সার, বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ, চাল ও নগদ বিতরণ, বিদ্যুতের উপর ভর্তুকি এবং হাওড় এলাকার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ।

তিনি হাওড় এলাকার জনগণকে অস্থির না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে যা এই প্রকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট।

সুলতানপুরের ক্ষতিগ্রস্ত লোকমান হাকিম বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে খুব খুশি। কেন খুশি সে জিজ্ঞাসার জবাবে জানালেন তিনি, ‘এই সফরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী সহানুভুতি ও তাঁর ভালবাসারই প্রতিফলন ঘটেছে, এতে প্রমাণিত হয় যে তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারেন এবং তাদের ব্যথাটা ধরতে পারেন।

pm+hawor+mbd
লোকমান বলেন, এই দুর্যোগ তাকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখী করেছে যে, এখন তাকে তার জীবন ধারণের জন্য মায়ের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত মাসিক ভাতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কারণ, তিনি তার বিশাল আবাদ থেকে এক কেজি ফসলও পাননি।

লোকমান বলেন, ‘হাওড় এলাকার মানুষের জন্য সত্যিকারেই স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় দিক থেকে গুরুতর সাহায্যের প্রয়োজন। কিন্তু আমার কাছে প্রধানমন্ত্রী এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- এটা আমাদের আস্থাহীনতা দূর করেছে।’

একমাত্র ব্যতিক্রম দিরাই-এর ২৫ বছর বয়সী প্রদীপ। শাল্লার দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তার সঙ্গে ভ্রমণের সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওড় এলাকার জনগণকে তাদের জীবন সংগ্রামে সুখী, গর্বিত ও আশাবাদী করে তুলেছেন। কিন্তু তার মতে নগদ অর্থ ও ত্রাণ গ্রহনের প্রবণতা খুব কম লোককেই দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

pm+hawor+mbd-f-f
তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত কারণ এই ত্রাণের একটি ক্ষুদ্র অংশই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের এই চলমান আর্থিক দূরাবস্থা নিরসনে ৩৮ কেজি চাল এবং ১ হাজার টাকা প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

বাহানা ইউনিয়নের বিনা দাশ ও ঝর্ণা জানান, যে ত্রাণ সামগ্রী তারা পেয়েছেন তা তাদের পরিবারকে অনেকটা সাহায্য করবে। প্রকৃতপক্ষে, তাদের উভয়েরই ত্রাণের প্রয়োজন ছিল। কারণ, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি কেনার মত নগদ টাকা তাদের নেই।
তারা উভয়েই শেখ হাসিনার কল্যাণ ও তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সীমান্তবর্তী ভারতের চেরাপুঞ্জিতে আগাম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবল বর্ষণের ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বোরো ফসল তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী-, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬২টি উপজেলার প্রায় ৮৫০,০৮৮ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

-সাইফুল ইসলাম শামীম ও হাবিব তালুকদার

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.