
মাস্টারি বিডি । শারমিন সোমা
ফিচার । ঢাকা । ১৪ এপ্রিল ২০১৯ । ০১ বৈশাখ ১৪২৬
পাখির নাম সাতভাই ছাতারে। বৈজ্ঞানিক নাম: Turdoides striata.। বন ছাতারে, ক্যাচক্যাচিয়া, সাতবইলা বা সাতভায়লা Leiothrichidae (লিওথ্রিকিডি) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত Turdoides (টুর্ডোইডিস) গণের অন্তর্গত এক প্রজাতির মাঝারি গায়ক পাখি। ইংরেজিতে এদের Jungle babbler বলে।

এরা সাধারণত ছয় থেকে দশটির দলে বিচরণ করে, অধিকাংশ সময়ে সাতটি ছাতারেকে একসাথে দেখা যায়। সেজন্য এদের নাম হয়েছে সাত ভাই।

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

আরেকটি আবাসিক পাখি হচ্ছে মেঠো ছাতারে। মাঠের পাখি হিসেবে এটি বেশ পরিচিত।
খোলা মাঠের এই পাখিরা ঝাঁকে চলে। অর্থাৎ ঝাঁক বেঁধে থাকে। প্রায় সারা দিনই ডাকাডাকি করে চলে। মাটিতেই বেশি চরে। লাফিয়ে লাফিয়ে এগোয় সামনের দিকে। প্রয়োজনে ঘাস, বিন্নাবন, কাশবন, নলখাগড়ার বন, আখখেত, পাটখেতে গাছ বেয়ে বেয়ে ওপরে উঠে যায় খাবারের তালাশে।

অতিসতর্ক ও ভীত স্বভাবের এই পাখি ডোরা সাতভয়লা নামেও পরিচিত। বাগেরহাটে ক্যাঁচকেঁচি প্যাঁচা নামে ডাকা হয় এদরে। ইংরেজি নাম স্টিয়েটেড বাবলার। বৈজ্ঞানিক নাম Argya carlei.।

মজা হচ্ছে, এদের মূল খাবার নানা রকম পোকামাকড়। বিশেষ করে আখখেত; লাউ, শিম, বেগুন বা মরিচখেতের ক্ষতিকর পোকা এদের প্রিয় খাবার। সঙ্গে ছোট শামুক ও শামুকের ডিম, বিভিন্ন পাকা ফল ও বীজ পেলে আয়েশ করে খায় এরা। আর পানীয় হিসেবে তাল বা খেজুরের রস এদের বিশেষ পছন্দ।

এদের ‘বিপদ সংকেতদাতা’ হিসেবে খুবই বিশ্বস্ত মনে করে খোলা মাঠের মাটিচর ভরত, পিপিট ঘুঘু, বুনো কোয়েল বা নাগরবাটই পাখিরা। এদের কণ্ঠ বেশ জোরালো ও সুরেলা। শিসও বাজায় চমৎকার।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম