
মাস্টারি বিডি । জাকারিয়া তুষার
ফিচার । ০৩ মার্চ ২০১৯ । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৫
চড়ুই পাখি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আছে। লোকালয়েই থাকতে পছন্দ করে ছোট্ট এই পাখি। মানুষের টিনের ঘরে কিংবা দালানের ছাদের কোনো কোণে খড়কুটো দিয়ে ঘর বানিয়ে দিব্যি সংসার পেতে বসে চড়ুই। ঘুলঘুলি, টালির চাল, ছোট-ছোট গাছেও এরা বাসা বেঁধে থাকে। তারপর সারা দিনমান চলে কিচিরমিচির, কিচিরমিচির গান।

কবিগুরু লিখেছেন-
“তপ্ত তৃষায় চঞ্চু করি ফাঁক
প্রাচীর -’পরে ক্ষণে ক্ষণে বসতো এসে কাক।
চড়ুই পাখির আনাগোনা মুখর কলভাষা
ঘরের মধ্যে কড়ির কোণে ছিল তাদের বাসা।”
সত্যিই তো একসময় দেখা যেতো চড়ুইয়ের ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ আসাযাওয়া আর শোনা যেতো দ্রুত লয়ের গান।

তবে, গত কয়েক বছরে এদের সংখ্যা বেশ কমে গেছে- যা ভাবলেই কষ্ট লাগে! শহুরে মানুষের বাসস্থানের আধুনিকীকরণের ফলে সেখানে ঘুলঘুলির বা টালির চালের ফাঁক-ফোঁকরের অভাব বেড়ে গেছে আর কমেছে গাছের সংখ্যা। ফল এই যে, এরা বাসা করে থাকতে পারছে না আর বংশবিস্তারে পড়ছে বাধা।

পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু ওই পাখিদেরই নয় আমাদেরও। তাই আমরাও আামাদের পরিবেশের আশে-পাশে যে সব পাখিদের যাতায়াত তাদের কিছুটা উপকার করতে পারি। যেমন- বারান্দায় বা গাছে পুরনো বাক্স বা হাঁড়ি ঝুলিয়ে তাদের শান্তিতে থাকার কিছুটা ব্যবস্থা তো আমরা করতেই পারি। প্রচণ্ড গরমের দিনে ঘরের বাইরে একটা পাত্রে জল রেখে দিলে, বা পারলে কিছু খাবারও। তখন দেখা যাবে কি আনন্দে ওরা সেই জল-খাবার খাবে আর নেচে-নেচে, ঘুরে-ঘুরে, নানান সুরে ডাকতে-ডাকতে, সেই জলে গা ধুয়ে নেবে।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম