মাস্টারি বিডি
বরগুনা । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । ০৯ আশ্বিন ১৪২৫
উপকুলীয় এলাকার নদী, খাল, বিল, পুকুর নালা এই শরতে পানিতে টই-টম্বুর। এ সকল জলাশয়ে চিংড়ি ও নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের আধিক্য রয়েছে। উপকূলের গ্রামাঞ্চলে এসব চিংড়ি ও দেশীয় মিঠা পানির মাছ ধরার জন্য পেশাদার বা অপেশাদার মাছ শিকারীরা ব্যবহার করছেন বাঁশের তৈরি ফাঁদ ‘চাঁই’। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ‘চাঁই’ দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন স্থানীয়রা, চলে টানা আশ্বিন মাসের শেষ পর্যন্ত।

গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার সবচেয়ে আদি ও পুরনো উপকরণের মধ্যে বাঁশের তৈরি ফাঁদ ‘চাঁই’ অন্যতম। উপকূলীয় বরগুনা, পটুয়াখালী, জেলার সর্বত্র বাঁশের ‘চাঁই’ তৈরি, বিকিকিনি ও ব্যবহার করা হয়। মৌসুমে এলাকার বাজারগুলোতে ও হাটবারে হাজার হাজার ‘চাঁই’ বিক্রি হয়। স্থানীয়ভাবে ‘চাঁই’ তৈরি হলেও মূলত বাজারগুলোতে পিরোজপুরের ‘চাঁই’ দামে সস্তা হওয়ায় বেশি বিক্রি হচ্ছে। গড়ে একজোড়া ‘চাঁই’ ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে বাজারগুলোতে। তবে প্রকারভেদে মাছ ধরার এসব সামগ্রীর দাম প্রতিটি ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পিরোজপুরের কাউখালীর একজন ‘চাঁই’ বিক্রেতা জানান, বিভিন্ন হাটে একেকদিন তিনি ৩০ থেকে ৫০টি ‘চাঁই’ বিক্রি করে থাকেন। তবে গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি বেশি। তার মতো আরো ১০-১৫ জন বিক্রেতা বরগুনার বিভিন্ন হাটে ‘চাঁই’ বিক্রি করছেন।

আমতলী উপজেলার ঘটখালী গ্রামের একজন কৃষক বলেন, মাঠ-ঘাট পানিতে ভরে আছে। পানিতে দেশীয় পুঁটি, কই, শিং, মাগুরসহ নানা মাছ দেখা যাচ্ছে। এসব মাছ ধরার জন্য ‘চাঁই’ কিনেছি। এতে করে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ বাজারে বিক্রি করছি। খালে-বিলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে ভালোই। সেই সঙ্গে বেড়েছে ‘চাঁই’য়ের কদর।

মাছ শিকারের সহজ উপকরণ ‘চাঁই’ এর ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। নিয়মিত ‘চাঁই’ তুলতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে জলাশয়ে ‘চাঁই’ পড়ে থাকলে কিংবা হারিয়ে গেলে শুধু শুধু মাছ মারা পড়বে।’
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম