মাস্টারি বিডি ডটকম
কামাল বারি । ঢাকা । ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ২০ মাঘ ১৪২৩
বাঙালির কোনো অর্জনই রক্তবিহীন হয়নি। মায়ের ভাষাও আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে। রক্ত দিয়েই বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন। ভাষার মাসের প্রত্যয় হচ্ছে, কোনো সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিকেল ৩ টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবং চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০১৭-এর শুভ উদ্বোধন করার সময় একথাগুলো বলেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রখ্যাত গবেষক ও রবীন্দ্র-অনুবাদক ডং ইউ চেন, অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, ভারতের চিন্ময় গুহ প্রমুখ।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মায়ের ভাষা অধিকারের এই আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অগ্রগণ্য। তিনি ছিলেন ছাত্র সমাজের কাছে আদর্শ। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকলেও ছাত্র নেতারা তার কাছে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে এসে আন্দোলনের কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইয়ে ভাষা আন্দোলনের বিস্তর আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বাংলাভাষা বিশ্বে অধিক মর্যাদা লাভ করে। ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে বিশ্ববাসী আমাদের ভাষা শহীদদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। এর পেছনে কানাডা প্রবাসী সালাম এবং রফিক নামে দুই বাঙালির অবদানের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্তের বিনিময়েই আমাদের সব অর্জন। মহান স্বাধীনতা লাখো শহীদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে। আবার এই বাঙালিই বঙ্গবন্ধুর রক্ত নিয়ে খুনির কালিমা পেয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। এর মধ্য দিয়ে বাঙালির আত্মমর্যাদা বিশ্বে বহুগুণ বেড়েছে।
ভাষার মাসের এ গ্রন্থমেলা বিশ্ববাসীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববরেণ্য অনেক লেখক-সাহিত্যিক এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা প্রাঙ্গণেই। ভাষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ে তোলা যায়। অন্য কোনো উপায়ে তা সম্ভব নয়। বাংলা সাহিত্য বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকাশক-প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক-প্রকাশক মফিদুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ। স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।
সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত দুটি গ্রন্থ মীর মশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি বিষাদ সিন্ধু-র ফকরুল আলমকৃত অনুবাদ Ocean of Sorrow, হারুন-অর-রশিদ রচিত মূলধারার রাজনীতি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল ১৯৪৯-২০১৬, জার্মানি থেকে প্রকাশিত Hundred Poems from Bangladesh এবং ক্রিস্টিয়ান কার্লসন অনূদিত সুইডিশ ভাষায় বাংলাদেশের কবিদের কবিতা সংকলন Bengal Iska Moln (বাংলার মেঘ) তুলে দেয়া হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম