মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৪ মার্চ ২০১৭ । ৩০ ফাল্গুন ১৪২৩
নতুন ভ্যাট আইনে সমন্বিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর রাজস্ব কাঠামোর সাথে মিল রেখে এবং ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে যৌক্তিকভাবে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন সম্মেলনকক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম খান। বৈঠকে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট খাতের মোট ৩৭টি প্রস্তাব দেয়া হয়। সংবাদ বাসস-এর।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় সংস্থার শুল্কনীতির জ্যেষ্ঠ সদস্য ফরিদ উদ্দিন, আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল ও ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, ডিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হুসেন এ সিকদার, পরিচালক আসিফ এ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ডিসিসিআই সভাপতি তার লিখিত প্রস্তাবে বলেন, শুল্ক কাঠামোতে ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলে দেশের শিল্পায়নের সাবলীল উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি হয়। আমদানিকারক ও ভোক্তা শ্রেণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। বাজেট ঘোষণার পর অর্থবছরের মাঝামাঝিঝ সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে শুল্ক হার হ্রাস-বৃদ্ধি পরিহার করা উচিত। সাবলীল শিল্পায়নের লক্ষে ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি শুল্ক কাঠামো প্রণয়ন জরুরি।

তিনি ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ, পারকুইজিট সীমা সাড়ে ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা, অফিস সরঞ্জামের অবচয় হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ ও সারচার্জের সীমা আড়াই কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
আবুল কাশেম খান বলেন, করহার না বাড়িয়ে এনবিআরকে করজাল বাড়ানোর দিকে মনোযোগ বাড়ানোর দরকার। তিনি বলেন, বিদ্যমান কর কাঠামো দিয়ে কর-জিডিপি অনুপাত ১৪ শতাংশে উন্নীত করতে হলে নতুন আরো ১০ লাখ মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে।করদাতার সংখ্যা হতে হবে ২৮ লাখ।
অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ডিসিসিআইয়ের বেশ কিছু প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষন করে বলেন,এবারের বাজেটকে অধিকতর ব্যবসাবান্ধব,শিল্পবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব করতে কাজ করছে এনবিআর। এ জন্য সব স্টেক হোল্ডারদের মতামত নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আয়কর মেলা বাংলাদেশের উদ্ভাবন।এটি সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।এর ধারাবাহিকতায় গত বছর আয়কর সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে।এবার কর ব্যবস্থা জনগণের আরো দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে আয়কর ক্যাম্প (ট্যাক্স ক্যাম্প) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ক্যাম্প চালু করা হবে যাতে, তৃণমূল থেকে আরো রাজস্ব আহরণ করা যায়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম