মাস্টারি বিডি ডটকম
স্পোর্টস ডেস্ক । ২৫ মার্চ ২০১৭ । ১১ চৈত্র ১৪২৩
তামিমের আগের বলটিতেই সম্ভাব্য ক্যাচকে ছক্কা বানিয়েছেন সিরিবর্ধনা। কিন্তু শেষ সময়ে ভাবাভাবির কিছু নেই। শুধু চাই রান। পরের বলে আবার উড়িয়ে মেরে লংঅনে ধরা পড়লেন তামিম ইকবাল। ফিরলেন ১২৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে।
শহিদ আফ্রিদির ১২৪ ছাড়িয়ে এই মাঠের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তামিমের। আফ্রিদির ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১০ এশিয়া কাপে।
১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৪২ বলে ১২৭। ইনিংসের ১৩ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ২৮৯।
সাকিব আগের বলেই অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল টেনে উড়িয়েছেন লং অনের ওপর দিয়ে। ম্যাচের যেটি প্রথম ছক্কা। পরের বলেই আবার অফ স্টাম্পের বাইরের বল ওড়াতে গেলেন সাকিব। এবার লাকমল দিলেন স্লোয়ার ডেলিভারি। টাইমিং ঠিক মতো হলো না। ধরা পড়লেন সান্দাকানের হাতে। ৭১ বলে ৭২ রানে ফিরলেন সাকিব। ৪৫.৫ ওভারে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ২৬৪।
মাইলফলক ছোঁয়ার পর দুই ব্যাটসমানই বাড়িয়েছেন রানের গতি। কুমারাকে টানা তিনটি চার মেরেছেন সাকিব।

৪৫ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২৫৬। ১০৭ রানে খেলছেন তামিম, ৬৫ রানে সাকিব। অপেক্ষা শেষ ৫ ওভারের ঝড়ের।
সাকিবেরও অর্ধশতক। তামিমের সেঞ্চুরির পরপর সাকিব ছুঁয়ে ফেললেন তার পঞ্চাশ। ৬১ বলে ছুঁলেন ৩৩তম ওয়ানডে অর্ধশতক। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২৩৫।
লাহিরু কুমারার বল লেগ সাইডে ঘুরিয়েই সিঙ্গেল নিলেন তামিম। একটু সময় নিয়ে যেন ফেললেন স্বস্তির নি:শ্বাস। খানিকপর খুললেন হেলমেট, উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট। সেঞ্চুরি!
১২৭ বলে তামিম ছুঁলেন সেঞ্চুরি। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও তামিমের সেঞ্চুরি এখন আটটি।
জুটির সেঞ্চুরি হয়েছে এর আগেই। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, ওয়ানডেতে ২৪ ইনিংস এক সঙ্গে ব্যাট করে সাকিব ও তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি জুটি এটিই! এর আগে অর্ধশত জুটি ছিল মাত্র চারটি। সবশেষটি ২০১২ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৬। যেটি ছিল জুটিতে দুজনের সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের রান ৪৩ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৩৪। তামিম খেলছেন ১০১ রানে, সাকিব ৪৯। জুটির রান ১১৪।
টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন আসেলা গুনরারত্নে। একই কাজ ওয়ানডেতেও। দ্বিতীয় জুটিতে ছুটছিলেন তামিম ও সাব্বির। বল হাতে নিয়ে তৃতীয় বলেই ভাঙলেন জুটি, ফেরালেন সাব্বিরকে।
স্লো মিডিয়াম পেসারের মতো দৌড়ে এসে গুনারত্নে বল ছাড়েন স্পিনারের মতো। ফুল লেংথ বলে ড্রাইভ করেছিলেন সাব্বির। বলে ছিল দারুণ গতি। কিন্তু শর্ট কাভারে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে নীচু হয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ক্যচ নেন অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা।
৫৪ রানে ফিরেন সাব্বির। তামিমের সঙ্গে জুটি ছিল ৯০ রানের। ২১.৩ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ২ উইকেটে ১১৯।
সাব্বিরের পঞ্চাশ। শুরুতে সৌম্যকে হারানোর ধাক্কা যেন বুঝতেই দিলেন না সাব্বির। উইকেটে যাওয়ার পর থেকেই খেলছেন দারুণ সব শট। তামিমকে ছাড়িয়ে পঞ্চাশও ছুঁয়ে ফেললেন আগেই।
৪৮ বলে সাব্বির করেছেন অর্ধশতক। তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ইনিংসে দ্বিতীয় পঞ্চাশ!
২০ ওভার শেষে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ১১৪। সাব্বিরের সঙ্গে তামিম খেলছেন ৫৯ বলে ৪১ রানে।
শুরুর মেঘ কাটিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে ঝলমলে রোদ। তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের স্ট্রোকের ফোয়ারায় ছুটে চলেছে বাংলাদেশ। দুজনই খেলেছেন দারুণ সব শট। দ্বিতীয় উইকেট জুটির পঞ্চাশ হয়ে গেছে ৪৮ বলেই।
১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৮৯। ৪৫ বলে ৩৪ রানে খেলছেন তামিম, সাব্বির ৩২ বলে ৩৮ রান। দুজনের জুটির রান ৬০।
সাব্বিরের টানা তিন চারে বাংলাদেশের পঞ্চাশ । গত অগাস্টের পর প্রথমবারের মতো দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নামা থিসারা পেরেরাকে টানা তিন চার মারেন সাব্বির রহমান। একস্ট্রা কাভার, মিডউইকেট আর পয়েন্টের ফিল্ডারকে ফাঁকি দিয়ে সীমানা খুঁজে নেন টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে অষ্টম ওভারে পঞ্চাশ স্পর্শ করে বাংলাদেশের স্কোর।
৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫০/১।
শুরুতেই সৌম্যর বিদায় । পঞ্চম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বলটির লেংথ বুঝতে পারেননি সৌম্য সরকার। সুরঙ্গা লাকমলের দেরিতে সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বল ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পারেননি, ব্যাটের কানায় লাগা ক্যাচ সহজেই গ্লাভসে নেন দিনেশ চান্দিমাল। ১৩ বলে দুটি চারে ১৩ রান করে সৌম্য ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২৯/১।
তামিমের ১০ হাজার রান। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করেছেন তামিম ইকবাল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৯ হাজার ৯৯৯ রান নিয়ে প্রথম ওয়ানডে শুরু করেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ম্যাচের তৃতীয় বলে দুই রান নেওয়ার পথে পৌঁছান পাঁচ অঙ্কের রানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই তামিম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
ফিরলেন মুশফিক, সৌম্য। চোট কাটিয়ে ওয়ানডে দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। ছন্দ ফিরে পাওয়া সৌম্য সরকার ফিরেছেন একাদশে।
নিউ জিল্যান্ডে খেলা তৃতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন তিন জন। সৌম্য ফেরায় জায়গা হয়নি ইমরুল কায়েসের। চোট কাটিয়ে মুশফিক ফেরায় একাদশে নেই তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার তানবীর হায়দার স্কোয়াডেই নেই।
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
টস হেরেও ইচ্ছাপূরণ মাশরাফির। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছেন, টস জিতলে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন তিনি।
মিরাজের অভিষেক। ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে তরুণ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের।
রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মিরাজের মাথায় টুপি পড়িয়ে দেন আরেক অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ। ১৯ বছর বয়সী মিরাজ বাংলাদেশের ১২৩তম ওয়ানডে ক্রিকেটার।
টেস্ট সিরিজের পর দেশে ফিরেছিলেন মিরাজ। খেলার কথা ছিল ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে। কলম্বোয় প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে হঠাৎ ডাকা হয় তাকে। এখন পর্যন্ত ৭ টেস্ট খেলা এই তরুণ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এখনও ততটা সফল নন। ২৭ ম্যাচে ২৯.১৪ গড়ে নিয়েছেন ২৭ উইকেট। সেরা ২/১৯।-সংগৃহীত
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম