
মাস্টারি বিডি ডটকম । কামাল বারি
ঢাকা । ১৩ নভেম্বর ২০১৭ । ২৯ কার্তিক ১৪২৪
আজ খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এইদিনে তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফয়েজুর রহমান। একাত্তরে হানাদার পাকবাহিনী তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মা আয়েশা ফয়েজ।
ছাত্র জীবনেই তাঁর লেখালেখির শুরু। প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এরপর প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’। এই দুটি বই প্রকাশের পর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমেই তিনি একজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা বজায় ছিল। জীবদ্দশায় তাঁর দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়।
বাংলা সাহিত্যের এই কীর্তিমান লেখকের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে তাঁরই গড়ে তোলা নন্দনকানন নূহাশ পল্লীতে।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক তিনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সামগ্রিক সৃষ্টিশীলতায় তিনি একজন বহুমাত্রিক স্রস্টা হিসেবেই সুপরিচিত। যখন যে কাজেই হাত দিয়েছেন- তাতেই তিনি সফল হয়েছেন- তার নতুন নতুন কাজে তার ভক্ত অনুরাগিরা মুগ্ধ হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্পমালা ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি গল্প সৃষ্টিতে ভাষার ব্যবহারে নিজস্ব একটা কৌশল এবং বর্ণনায় লোকজধারাকে প্রাধান্য দেন। বাস্তবতা থেকেই উঠে এসেছে তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম।
হুমায়ূন আহমেদ শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘদিন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে তিনি লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। উপন্যাস, নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, চলচ্চিত্র ও নাটক পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর।
তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে- ‘হোটেল গ্রেভারইন’, ‘দেবী’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প’, ‘আগুনের পরশমনি’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘কিশোর সমগ্র’, ‘আয়না ঘর’, ‘একজন মায়াবতী’, ‘কে কথা কয়’, ‘অপেক্ষা’, ‘আমার আছে জল’, ‘লীলাবতী’, ‘হরতন ইস্কাপন’, ‘হলুদ হিমু কালো র্যাব’সহ হিমুকে নিয়ে লেখা সিরিজ, মিসির আলী সিরিজ, শুভ্র সিরিজ। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘শ্যামল ছায়া’।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম