মাস্টারি বিডি ডটকম
ভোলা । ২৯ নভেম্বর ২০১৬ । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
ভোলা জেলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন এলাকায় তেতুলীয়া নদীর ওপরে বাঘমারা সেতু নির্মান কাজ সম্পন্নের পথে। ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির প্রায় ৯৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ৪৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির প্রস্থ রয়েছে ৮ পয়েন্ট ৪ মিটার।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বৃহত্তর বরিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত সেতুটি আগামী মাসের মধ্যেই উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সেতুটি নির্মাণের মধ্যে দিয়ে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে।
জানা যায়, দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তেঁতুলীয়া নদীর ওপর পাড়ে ভেলুমিয়া ও ভেদুরিয়া চর নামক ২টি ইউনিয়ন রয়েছে। অর্ধলক্ষেরও বেশি মানুষ বসবাস করে বিচ্ছিন্ন এই জনপদে। দীর্ঘকাল ধরেই এপাড়ের মানুষের সাথে ওপাড়ের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সু-সম্পর্ক রয়েছে। এক সময় এই অঞ্চলের মানুষ খেয়া নৌকার মাধ্যমে নদী পাড়ি দিতো।
এতে বর্ষাকালসহ সারা বছরই নানান ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে সন্ধ্যের পরে খেয়া চলাচল বন্ধ থাকাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভূতুড়ে জনপদে পরিণত হতো। আর এখন খুব সহজে অল্প সময়ে এই সেতু দিয়ে এপাড় ওপাড় করা যাবে।
এছাড়া জেলার বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমুদ্দিনসহ ৫ উপজেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা খুব সহজে বাঘমারা সেতু দিয়ে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট হয়ে বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় যেতে পারবে। এতে তাদের ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে।
ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল সংবাদমাধ্যমকে জানান, সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। বাঘমারা সেতু নির্মানের মাধ্যমে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ জীবনমান উন্নত হবে। বিশেষ করে জেলার ৫ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এই সেতুর মাধ্যমে কম সময়ে বরিশাল, পটুয়াখালীসহ অন্যান্য জেলায় যেতে পারবে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয়। দৈনিক প্রায় ২শ’ শ্রমিক এটি নির্মাণে কাজ করেছে। ব্রিজটি তৈরিতে ১৩০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন ও ৪০ মিটার ভাসমান বার্জ ব্যবহার করা হয়েছে। হাইড্রলিক ভাইব্র হেমারের মাধ্যমে স্টিল ক্যাচিং বসানো হয়েছে। আর ঢালাই হয়েছে কংক্রিট পাম্প’র মাধ্যমে। এখানে চায়না ও ইন্ডিয়ার বিভিন্ন কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়েছে। শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখেই সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাহিদুল আলম রিপন বলেন, ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি আমাদের প্রাণের দাবি ছিলো। বিগত দিনে সবাই আশ্বাস দিলেও কেউ কাজ করেনি। অবশেষে বর্তমান সরকার সেতুটি নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। এতে করে এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
ভেলুমিয়া ইউনিয়ন এলাকার মাদ্রাসা ছাত্র মো. সোলায়মান জানান, তিনি ভোলা আলীয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। ব্রিজ না থাকার কারণে তার ১০ কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া বর্ষার সময় নৌকা পারাপারে চরম দুর্ভোগ হতো। এখন তার সময় অনেকটাই কম লাগবে মাদ্রাসায় যেতে।
ভোলা জেলা এলজিইডি’র প্রধান নির্বাহী প্রকৌশরী মো. সাখোয়াত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাবাজার-বাঘমারা শরিফখা বাজার সড়কে এলজিইডি’র অর্থায়নে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখেই সেতুটির নির্মাণ কাজ হয়েছে।
আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই সেতুটি উদ্বোধন করা হবে বলে জানান এলজিইডি’র প্রধান এই কর্মকর্তা।
-হাসনাইন আহমেদ মুন্না
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম