মাস্টারি বিডি ।
ঢাকা । ২২ জুন ২০১৮ । ০৮ আষাঢ় ১৪২৫
যথাযথ মর্যাদায় ও নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সাতাশতম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
রুদ্র সংসদের সভাপতি সাংবাদিক সুমেল শরাফত সংবাদমাধ্যমকে জানান, দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে কবির গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার মংলা উপজেলার মিঠাখালিতে রুদ্র সংসদের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার লোক শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করে কবির সমাধিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

রুদ্র সংসদের সভাপতি সুমেল শরাফত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মংলা শাখার সভাপতি নূর আলম, মংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি নাজমুল হক, শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সংগীত শিল্পী গোলাম রহমান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ ছাড়াও বিকেল তিনটায় রুদ্র সংসদের কার্যালয়ে কবির স্মরণে আলোচনা সভা হয়। সভায় আলোচনায় অংশ নেন, মংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ও মংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এম দুলাল। আলোচনা শেষে সেখানে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর’র কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
দ্রোহ, প্রেম ও প্রতিবাদী বহু কবিতার রচয়িতা কবি রুদ্র’র পৈত্রিক নিবাস খুলনা জেলার মংলা উপজেলার মিঠাখালি গ্রামে। ১৯৫৬ সালে পিতার কর্মস্থল বরিশালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা লেখার পাশাপাশি গান লিখেও জনপ্রিয়তা লাভ করেন কবি। তার রচিত অর্ধশত গানের মধ্যে দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয় ‘ভাল আছো ভাল থেকো’ গানটি। এ গানটির জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) তাকে সম্মাননা দেন। এ ছাড়া তিনি কাব্য প্রতিভার জন্য মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পান।
তিনি ‘প্রতিবাদী রোমান্টিক’ কবি হিসাবে খ্যাত। আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে কজন কবি বাংলাদেশী শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি তাদের অন্যতম। তাঁর জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’।
‘উপদ্রুত উপকূল’, ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’, ‘মানুষের মানচিত্র’, ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
‘মৌলিক মুখোশ’, ‘ছোবল’ ইত্যাদি কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
তিনি ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম