মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ১৩ মে ২০১৮ । ৩০ বৈশাখ ১৪২৪
মা ডাকটির মতো মধুরতম ডাক পৃথিবীতে আর নেই। মাতৃফুল থেকে সন্তানের জন্ম। মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হবার সময় যদিও নাড়ি কেটে সন্তানকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু মায়ের সাথে সন্তানের হৃদয় মন এবং রক্তের বন্ধন কখনও ছিন্ন হবার নয়। যতই আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণের কথা বলি, শরীরবৃত্ত বাস্তবতার কথা বলি, প্রকৃতির কথা বলি- সন্তানের জন্য মায়ের যে অসীম ত্যাগ- তার তুলনা হবে না। সে কারণেই মায়ের স্থান সন্তানের হৃদয়ের গভীরে।

আজ বিশ্ব মা দিবস। এদিন সারা পৃথিবীর সন্তানেরা নিজ নিজ মাকে স্মরণ করেন একসাথে। এদিনটিতে যাদের মা বেঁচে আছেন তারা যেমন মাকে নিয়ে হৃদয়ের অনুভূতি প্রকাশে ব্যস্ত তেমনি যাদের মা বেঁচে নেই তারা মাকে স্মরণ করে থাকে গভীর শ্রদ্ধায়।
‘তোমার তুলনা তুমিই মা’ এবছর এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মা দিবস পালিত হচ্ছে। এ নিয়ে উইকিপিডিয়া যা বলে- ‘মা দিবসের’ প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন গ্রিসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’ যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। রোমানরা পালন করতেন ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে। তারা দিনটিকে উত্সর্গ করেছিলেন ‘জুনো’র প্রতি। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হতো ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগের রবিবার এটি পালন করেন তারা।
আরেক তথ্য হলো- সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আমেরিকাজুড়ে মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হয়। এরপর আমেরিকার চৌহদ্দি ছাড়িয়ে মা দিবসটি সর্বজনীন করে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন জুলিয়া ওয়ার্ড নামের এক আমেরিকান। ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড নিজে ‘মা দিবস’ পালন করেন। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবস পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।
পৃথিবীর সব দেশেই এই মা শব্দটিই কেবল সার্বজনীন। মা প্রথম কথা বলা শেখান বলেই মায়ের ভাষা হয় মাতৃভাষা। মা হচ্ছেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব, নিশ্চয়তা ও আশ্রয়। মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু। মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

ইসলামে মায়ের মর্যাদা অসীম। মাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্বীয় রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সালামের পরে সর্বোচ্চ আসন দিয়েছেন। সমাসীন করেছেন অভাবনীয় মর্যাদার আসনে। বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।
মাকে স্মরণ করে জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি, অথবা যা হতে আশা করি, তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী’। নেপলিয়নের সেই সার্বজনীন কথাটি খুব প্রসিদ্ধ – আমাকে একজন ভাল মা দাও, আমি তোমাদের একটি ভাল জাতি উপহার দেব।

মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নাই। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি দিবসের প্রতিটি মুহূর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়ে থাকে।
সূত্র : ইত্তেফাক
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম