Home / জাতীয় / ডিপ স্টেট, কিচেন কেবিনেট ও ‘ফেরেশতাদের’ শাসনামল
9 4 26 1 77

ডিপ স্টেট, কিচেন কেবিনেট ও ‘ফেরেশতাদের’ শাসনামল

ঢাকা, শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২৬ মাসস

ক্ষমতা ছাড়ার পর কেন সবাই ‘সাধু’ হতে চান? অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বয়ানে উঠে আসছে কিচেন কেবিনেট আর ডিপ স্টেটের রহস্যময় সব তথ্য। সংস্কারের দেড় বছর পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অবসানের পরে এই সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বক্তব্য শুনে একটি প্রবাদ মনে পড়ছে। সেটি হলো—চেয়ারে বসার আগে এবং পরে সবাই ফেরেশতা। অর্থাৎ যতক্ষণ না কাউকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার আসল চেহারাটা দেখা যায় না। আবার দায়িত্বে থাকাকালীন তাদের যে চেহারাটা মানুষ দেখেছে, দায়িত্ব বা চেয়ার ছাড়ার পরে সেই মানুষগুলো আবারও যেন ফেরেশতায় পরিণত হন। অর্থাৎ দায়িত্বে যাওয়া এবং ছাড়ার মধ্যবর্তী সময়ের মানুষটাই যে আসল, সেটিই হচ্ছে বাস্তবতা। যে কারণে জীবনের একটি বড় সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষ যাদেরকে দলনিরপেক্ষ, দেশপ্রেমিক ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার হিসেবে দেখে একটা সম্মানের জায়গায় বসিয়েছে, দায়িত্বপূর্ণ চেয়ারে বসার পরে সেই মানুষগুলোরই এক ভিন্ন রূপ যেন উন্মোচিত হয়ে যায়। চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুখোশটা খুলে গিয়ে মুখটা বেরিয়ে পড়ে।

সারা জীবন প্রশাসনসহ রাষ্ট্রীয় অনেক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকে অবসরের পরে সুশীল হয়ে ওঠেন। তারা পত্রিকার কলামনিস্ট হয়ে এবং টেলিভিশনের টকশোতে আলোচক হিসেবে জাতির বিবেকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আমলাতন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেন; অথচ তিনি নিজেও একসময় বিরাট আমলা ছিলেন। কিন্তু সেই আমলাতন্ত্র ঠিক করার জন্য দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজে কী ভূমিকা পালন করেছেন, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ প্রতিরোধে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেই উদ্যোগ নিলে তার ফলাফল কী হয়েছিল—এমন প্রশ্ন করলে খুব সন্তোষজনক জবাব আসবে না। কিন্তু অবসর গ্রহণের পরেই তারা বিরাট সুশীল, জাতির বিবেক।

আমলাদের শয়তানির মাত্রা নিয়ে খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কাছে একটি গল্প শুনেছিলাম। গল্পটা এরকম—কোনো একটি বড় প্রকল্প থেকে মন্ত্রী মহোদয়ের চাহিদামাফিক কমিশন আসবে না—এমন শঙ্কা তৈরি হলে তিনি ফাইলটি ‘Not Approved’ লিখে স্বাক্ষর করে দেন। কিন্তু সচিব মহোদয় ঠিকই কিছু ফাঁকফোকর তৈরি করে মন্ত্রীকে বোঝালেন যে, প্রকল্পটা পাস করলে তার লাভ হবে। মন্ত্রী চিন্তিত হয়ে পড়লেন, কারণ তিনি তো ফাইল ‘Not Approved’ লিখে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। এখন কী হবে? সচিব বললেন, ‘স্যার একটা ‘e’ যোগ করে দিন। অর্থাৎ Not Approved-কে Note Approved বানিয়ে দিন।’ এরকম ধুরন্ধর লোকেরাও অবসরের পরে একেকজন বিরাট সমাজকর্মী হয়ে ওঠেন।

গল্পটা অনেকের কাছে ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া মনে হলেও এই সময়ের বাস্তবতায় গল্পটা মনে পড়ল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন উপদেষ্টার আত্মপক্ষ সমর্থন এবং কিছু বক্তব্যের কারণে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতবিরোধিতার মাত্রা এতটাই তীব্র হয় যে, এখনও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের ভিসা বন্ধ। যদিও বৃহৎ এই প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে নতুন সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে আছেন। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিতও মিলেছে। উপরন্তু নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করতে যাচ্ছেন ভারতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একাধিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর উগ্রবাদী আচরণ ও কথাবার্তায় মনে হচ্ছিল, এই বুঝি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ লেগে গেল। ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী যেমন সেখানে বসে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে, বাংলাদেশেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। এরকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার জেরে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশ টিম খেলবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার সংকটের কথা বলা হলেও এখানে যে মূল ভূমিকা পালন করেছে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট, সেটি নিয়ে দ্বিমতের কোনো সুযোগ নেই।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পরস্পরের ওপর দায় চাপিয়ে আসছিলেন। এবার আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন, তবে তারা নাকি জোরালোভাবে বলেননি! বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, বিশ্বকাপে যাওয়া বা না যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তিনি বলেন, ‘ভারতকে বার্তা দিতেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ।’ অর্থাৎ ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টের কারণেই যে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে পাঠায়নি অন্তর্বর্তী সরকার এবং এ কারণে যে বাংলাদেশের ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হলো, এটি আসিফ নজরুলরা স্বীকার করবেন না। আবার এখন স্বীকার করলেও তাতে কিছু যায় আসে না; কারণ ঘটনা যা ঘটার ঘটে গেছে। এখন স্বীকার করে তারা মহৎ সাজতে পারেন, আবার স্বীকার না করে দায় এড়াতেও পারেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের শেষদিকে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। অনেকে এটাকে ‘গোলামি চুক্তি’ বলে অভিহিত করছেন। কিন্তু বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে তাকে কখনো ডাকা হয়নি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তাকে ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মূলত নির্দিষ্ট কিছু উপদেষ্টাকে নিয়ে বসতেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের পুরো সময়ে সরকারের ভিতরে আরেকটি কিচেন কেবিনেট ছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি পাল্টা জানতে চেয়েছেন, কোন সরকারের আমলে কিচেন কেবিনেট ছিল না?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে অথচ সেটি আইন উপদেষ্টা তথা আইনমন্ত্রী জানবেন না—এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এই চুক্তির বিষয়ে আরেকটু এগিয়ে সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটি থেকে মাংস, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি; কিন্তু ঠেকাতে পারেননি।

প্রশ্ন হলো, এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানা ফোরামে সমালোচনা হচ্ছে বলে এখন কি উপদেষ্টারা দায় এড়াচ্ছেন বা নিজেদেরকে সাধু প্রমাণের চেষ্টা করছেন, নাকি সত্যিই ড. ইউনূস একটি কিচেন কেবিনেট গড়ে তুলেছিলেন? যে কেবিনেটের কথা প্রথম প্রকাশ্যে বলেছেন আরেকজন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি চ্যানেল ওয়ানকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশিরভাগ বড় সিদ্ধান্ত হতো উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে।

রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টামণ্ডলীই হচ্ছে কিচেন কেবিনেট। মন্ত্রিসভার সদস্য কিংবা সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী নন, এমন ব্যক্তিরাও কখনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় কাজে পরামর্শ দিতে পারেন। এ ধরনের উপদেশ বা পরামর্শদাতাদের সম্মিলিতভাবে কিচেন কেবিনেটের সদস্য বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘কিচেন কেবিনেট’ কথাটি বহুল পরিচিত। প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের কিছু উপদেষ্টাকে বোঝাতে প্রথম কথাটি ব্যবহৃত হয়। তিনি কিছু ব্যক্তিগত উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। এদের বোঝাতে ব্যঙ্গার্থে কিচেন কেবিনেট কথাটি ব্যবহার করা হতো। এরা হোয়াইট হাউসে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে বসতেন না।

কিচেন কেবিনেট এখন রীতিমতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘ডিপ স্টেট’—যা নিয়ে সম্প্রতি ‘বোমা ফাটিয়েছেন’ অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে বা থাকতে পারে, সেই কৌশল সাজিয়ে দিয়েছিল ডিপ স্টেট। যদিও সেই ডিপ স্টেটে কারা ছিলেন, তিনি সে কথা বলেননি।

বাস্তবতা হলো, সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তথা চেয়ারে থাকা অবস্থায় তার মুখ থেকে এমন কিছু বের হয়নি। কিন্তু দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরেই তিনি ডিপ স্টেটের কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, সেই কৌশলও সাজিয়ে দিয়েছিল ডিপ স্টেট। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি, আমরা কিন্তু সেটাতে সায়ও দিইনি। আমরা সবসময় গণতন্ত্রকেই সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য আমরা নিজেরা আগ বাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি।’

দায়িত্বে থাকাকালীন নানা ইস্যুতে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক উঠেছে। চেয়ার ছাড়ার পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন তথা নিজেদের কাজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি শুরু হয়েছে সম্ভবত উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে দিয়ে। মার্চের শুরুতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা সেই গোষ্ঠীকে ‘মেইনস্ট্রিম’ হতে দেননি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সময় মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির মতো ঘটনাও সামনে আসে। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুবই চাপের ছিল। একদিকে ছিল বিশৃঙ্খলা, অন্যদিকে আমাদের নিজেদের মূল্যবোধ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে।’

এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত জটিল ও কঠিন একটি সময়ে জনগণের বিশাল প্রত্যাশার চাপ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। উপরন্তু এই সরকারে যারা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের অধিকাংশেরই রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। একদিকে অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা এবং অন্যদিকে কিছু উগ্রবাদী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে ওই সরকারের জন্য ঠিকঠাক মতো দেশ চালানো বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু সেই কঠিন কাজটি করতে গিয়ে উপদেষ্টারা, বিশেষ করে সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূস কতটা নিরপেক্ষ ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকেছেন বা থাকতে পেরেছেন—তা নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মতো নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারও যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে দেশ পরিচালনা করতে পারেনি, সেই ব্যর্থতার দায়ও তাদেরকে নিতে হবে। দায়িত্ব ছাড়ার পরে উপদেষ্টারা যতই আত্মপক্ষ সমর্থন করুন না কেন বা নিজেদেরকে যতই সাধুসন্ত প্রমাণের চেষ্টা করুন না কেন, তাদের ব্যাপারে জনমনে প্রশ্নেরও শেষ নেই।

যে কারণে অনেকেই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামল নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি করছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী একজন অর্থনীতিবিদের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো দেড় বছরে দেশ যে একটি ভয়াবহ অনিশ্চয়তা আর অরাজকতার মধ্যে ছিল; যেভাবে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়েছিল; যেভাবে মব সন্ত্রাস প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল—তাতে সংস্কারের আড়ালে সত্যিই এই দেড় বছরে কী কী হয়েছে, কারা কোথা থেকে কী কলকাঠি নেড়ে দেশটিকে আসলে কোথায় নিতে চেয়েছিল—তার একটি নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যও এটা জরুরি। সেই সঙ্গে ডিপ স্টেট ও কিচেন কেবিনেটের তথ্য উদ্ঘাটন করা জরুরি; দীর্ঘমেয়াদে দেশ নিয়ে তাদের কী লক্ষ্য ছিল, সেই সব প্রশ্নেরও উত্তর জানা থাকা প্রয়োজন।

সূত্র : বিডিনিউজ২৪.কম

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …