মাস্টারি বিডি ডটকম
শিমুল আহসান । ঢাকা । ০৯ জুন ২০১৭ । ২৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৪
মাত্র তিন মাসের জন্য ওরা মৌসুমী শ্রমিক। কেউ আম বাগানের রাত পাহারাকারী, কেউ পরিচর্যাকারী, কেউ বহনকারী, কেউবা আমের ঝুড়ি তৈরিকারী, কেউ আমের ফড়িয়া, কেউবা আমের বাগান মালিক। মেহেরপুরের সিকিভাগ মানুষ এই আমের সাথে সংশ্লিষ্ট। এলাকার আম-সংবাদ বলছিলেন মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু।
তিনি আরও বলেন, জেলার সিকিভাগ নিম্নআয়ের অনেক মানুষেরই আম অর্থনীতির সঙ্গে জীবন জীবিকা। তিনমাসের আয়ে তাদের পরিবারের ছয়মাসের খোরাক আসে।

জেলার ২ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমচাষ করা হয়। এসব বাগান পাহারা দিতে প্রয়োজন হয় বিপুল সংখ্যক লোকবলের। এছাড়া বাগানের আম গাছ থেকে আম সংগ্রহর জন্য কয়েক হাজার শ্রমিক দরকার। আম প্যাকেটজাত, বাজারজাতে পরিবহনে তোলা, ফেরিকরে বিক্রি করা সহ বিভিন্নভাবেই আমের সাথে সিকিভাগ মানুষের জীবিকার বিষয়টি জড়িত।
গাছ থেকে আম সংগ্রহকারী রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমরা আম সংগ্রহকারী শ্রমিক হলেও গাছের সেরা আমটি আমরা গাছ থেকে পাড়ার সময় গাছে বসেই খেয়ে ফেলি। এজন্য সেরা আমভাগ্য আমাদের। জেলায় শুধুমাত্র গাছ থেকে আমসংগ্রহকারী শ্রমিক অন্তত চার হাজার হবে বলে শ্রমিকরা মনে করেন।
মেহেরপুরের ফুলবাগান পাড়ার মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় কারওরান বাজারের কাঁচাবাজারের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। আমের মৌসুমে তিনি ছুটি নিয়ে নিজ জেলায় ফিরে আসেন। এসময় তিনি মেহেরপুরের বাগানগুলোতে আম সংগ্রহর কাজ করে প্রতিদিন ৫শ’ টাকা করে মুজুরি পান। অর্থিক সুবিধাসহ এইজেলার হিমসাগর আর ল্যাংড়া আম খাবার লোভেই সে আমপাড়া শ্রমিকের কাজে ছুটে আসে বলেও জানায়।

আমচাষি শামীমুল ইসলাম শামীম জানান, এবার শ্রমিক সংকট চলছে। বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের মানুষ আম শ্রমিক হবার পরেও শ্রমিক সংকট সম্পর্কে বলেন প্রতি বছরই বাগান বৃদ্ধির তুলনায় শ্রমিক বাড়ে না; তাছাড়া অভিজ্ঞ শ্রমিক না হলে আম পাড়ার সময় মাটিতে পড়ে আম নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আমপাড়ারও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ৫শ’ টাকার নিচে কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত টাকায় শ্রমিক নিতে হচ্ছে বলে জানান।
এদিকে ইউরোপের ছয় দেশে রপ্তানী হতে যাচ্ছে রাজশাহীর আম। সুস্বাদু মৌসুমী ফল হিসেবে প্রসিদ্ধ বাঘা উপজেলার আম এবছর ইউরোপের ছয়টি দেশে রপ্তানী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর থেকে ইংল্যান্ড, সুইডেন, ফ্রান্স, নরওয়ে, পুর্তগাল এবং রাশিয়ায় আম রপ্তানীর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
হরটেক্স ফাউন্ডেশন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, আম রপ্তানীর জন্য পঞ্চাশজন বাগান মালিককে তালিকাভুক্তির পর সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এর আগে কৃষি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় তারা নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম ফলনের প্রশিক্ষণ নেয়।
এ বছর রাজশাহী থেকে বিদেশের বাজারে প্রায় ১ শ টন আম রপ্তানী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (ডিএই)-র উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, আমগুলো আধুনিক ব্যাগিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছে। গত বছর এই প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ৩০ টন আম ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানী করা হয়েছে।

কৃষিবিদ ঢালী বলেন, গত কয়েক বছর যাবত ব্যাগিং পদ্ধতিতে ফল উৎপাদন বেড়ে চলেছে। এই পদ্ধতিতে আম উৎপাদিত হলে কোনো রকম কীটনাশকের প্রয়োজন হবে না। ফলে আমগুলো বিষমুক্তভাবে বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, ইউরোপের সুপারশপে বাঘার আম বিক্রির ব্যাপারে আমি সত্যিই কৌতূহলি এবং এর মাধ্যমে ইউরোপের অন্যান্য সুপারশপেও দেশের আম রপ্তানীর জন্য নতুন দার উন্মোচিত হবে। আম রপ্তানীর ফলে দাম ভালো পাওয়ায় চাষিদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

আম রপ্তানীর ব্যাপার রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সভাপতি মো. মুনিরুজ্জামান বলেন, এটা কোনো দান বা সহায়তা নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি বাণিজ্যিক বিষয়। তিনি বলেন, আমের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চাষিদের ভালো মানের আম উৎপাদন করতে হবে।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম