মাস্টারি বিডি ডটকম
নিরজন । ঢাকা । ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ । ০৬ আশ্বিন ১৪২৪
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও জাতিসংঘের ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত, সেদেশে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপুরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। আর এজন্য বাংলাদেশ যে ত্রিমুখী উদ্যোগ নিয়েছে তা হচ্ছে, শেখ হাসিনার শান্তি উদ্যোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা ও গণমাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সঠিক চিত্রায়ন।
তথ্যমন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন- জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপিসহ জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, এডভোকে হাবিবুর রহমান শওকত, মীর হোসাইন আখতার, নুরুল আখতার প্রমুখ।
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সাং সুচি’র মঙ্গলবার দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘সুচি’র বক্তব্য রোহিঙ্গা সমস্যার সঠিক চিত্র তুলে ধরেনি। শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে তার শর্তদান গ্রহণযোগ্য নয়। রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন ও গণহত্যার বিষয়টিও তার বক্তব্যে ফুটে উঠেনি। কিন্তু আগে থেকে বাংলাদেশে আশ্রিতসহ সকল রোহিঙ্গা যে মিয়ানমারের নাগরিক তা তার বক্তব্যে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত এদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা ৮ লক্ষাধিক।
মিয়ানমারের যে কোনো অজুহাত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সকল রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আড়াল করার অপচেষ্টা করে লাভ নেই, সমগ্র বিশ্ব জানে রাখাইনে গণহত্যা ও নির্যাতন করে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বিতাড়ন করা হয়েছে। এই গণহত্যায় জড়িতদের বিচার করতে হবে এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ মর্যাদায় নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।’
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, সামরিক নয়, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী। প্রতিবেশি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিপীড়ন ও গণহত্যার ফলে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে আজ পর্যন্ত যে ৪ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করে শেখ হাসিনা তাদের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসাসহ মানবিক সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন। ‘বিশ্বব্যাপী যখন বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে, তখন বিএনপি, খালেদা জিয়া ও জামাতীচক্র অভ্যন্তরীণ রাজনীতির রোহিঙ্গাকরণ করছে’ উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যাকে পুঁজি করে সাম্প্রদায়িকতার জিগির তোলা এমনকি যুদ্ধের উস্কানি দেয়ার মতো কূটরাজনীতির কৌশলে লিপ্ত রয়েছে তারা। এবিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

এদিকে বিকেলে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মিলন হলে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সাথে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য টেলিভিশনসহ সকল গণমাধ্যমের প্রশংসা করেন ও ধন্যবাদ জানান। সরকারের মানবিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী তাদেরকে বস্তুনিষ্ঠ প্রচার অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।
তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নাসির উদ্দীন আহমেদ, আরটিভির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আশিক রহমান, দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহিদুল ইসলাম, বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামদুল হক, চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক প্রণব সাহাসহ গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম