পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ
Mastary Sangbad
এপ্রিল ১৮, ২০২৬
অর্থনীতি, জাতীয়, প্রচ্ছদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যানার, ব্রেকিং নিউজ
30 Views
ঢাকা, শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬ মাসস
পোশাক রপ্তানিতে ধারাবাহিক ধস চলছেই। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে টানা আট মাসের বেশি সময় ধরে পোশাক রপ্তানি কমছে। পোশাক রপ্তানির শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ৯ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক-এ রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে শুধু স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং লিড টাইম পণ্য পৌঁছানোর সময় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ পোশাক রপ্তানিতে ভালো করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে এই মন্দা অবস্থা শুরু হয়।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতে জুলাই-মার্চ ২০২৫-২৬ সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতের রপ্তানি আয় ১৫ দশমকি ১১ বিলিয়ন ডলার (কমেছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ ) এবং ওভেন খাতের আয় ১৩ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার (কমেছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ)। রপ্তানি আয়ের বিবেচনায় শীর্ষ ১০ বাজারে রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত ৯ মাসে শীর্ষ ১০ বাজারের মধ্যে ৯টিতে রপ্তানি কমেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম স্পেন। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ শতাংশের মতো।
রপ্তানি কমার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত বছরের ৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্যে কমেছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ সময় যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরে ছিল ৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশ জার্মানিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত কমেছে ১৪ শতাংশ। ৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে। ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ রপ্তানি কমেছে ফ্রান্সে। ১৬৪ কোটি ডলার থেকে রপ্তানি কমে এসেছে ১৪৪ কোটিতে। ইতালিতে রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ। ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন থেকে কমে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। নেদারল্যান্ডস কমেছে শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ। কানাডার রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। জাপানে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। ডেনমার্কে কমেছে ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে কারখানায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া গত কয়েক মাস ধরেই রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক ধারা চলছে। অতীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এই নেতিবাচক পরিস্থিতির শুরু হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের ধাক্কায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। সব মিলিয়ে ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
২০২৬-০৪-১৮