ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬মাসস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত নতুন সরকার ও জাতীয় সংসদ পেতে যাচ্ছে দেশ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠন হতে যাচ্ছে এবারের নতুন সরকার। আজ সকালে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, অতিথি গ্যালারি, ভিভিআইপি জোন ও গণমাধ্যম কর্নার তৈরির কাজ গতকাল শেষ হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা এবং গণআন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত শেষ করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে সংসদ ভবন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এমপি ও মন্ত্রীদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন তার সবটুকু সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করি সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করছে। এ নিয়ে বিএনপি ষষ্ঠবারের মতো দেশ পরিচালনার সুযোগ পেল। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনা করেছে।
পুরো সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানোর জন্য সংসদ ভবনের বাইরে প্রস্তুত লাইভ স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের দিন গণভবনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, গণ অভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সকাল ১০টায় সংসদের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একসঙ্গে ১০০ জন এমপি শপথ নেবেন। তিন ভাগে এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বিগত দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। শপথ শেষে সদস্যরা নির্ধারিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। আসনওয়ারি শপথ ফরম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শপথ শেষে বিএনপি সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদের নেতা নির্বাচন করা হবে। একইভাবে জামায়াতের সংসদীয় দলের বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করা হবে।
বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে সংসদ ভবনের খোলা স্থানে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শপথের পরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম