ঢাকা, বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ মাসস
পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে বি ক্যাটাগরি থেকে এ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাবাসীর জন্য এক বিশাল সুখবর। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এ ক্যাটাগরিতে সাতক্ষীরা জেলা উন্নীত হয়েছে। প্রশাসনিক গুরুত্ব এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে, যা জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এতদিন জেলাটি ‘বি’ (B) ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু এখন থেকে এটি ‘এ’ (A) ক্যাটাগরির মর্যাদা লাভ করল।
একটি জেলাকে যখন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়, তখন এর পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। সাতক্ষীরা জেলা আয়তন, জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অনেক আগে থেকেই নিজের অবস্থান শক্ত করে আসছিল। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এই জেলা চিংড়ি সম্পদ, কৃষি এবং ভোমরা স্থলবন্দরের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু জেলার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং প্রশাসনিক কাজের পরিধি বাড়ার কারণে একে আপগ্রেড বা পদোন্নতি দেওয়া সময়ের দাবি ছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হলো।
একটি জেলা ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে গেলে সাধারণ মানুষের লাভ কী? বা প্রশাসনিকভাবেই বা কী পরিবর্তন আসে? চলুন সহজ ভাষায় জেনে নিই:
১. প্রশাসনিক মর্যাদা বৃদ্ধি: এ ক্যাটাগরির জেলা হওয়ার ফলে সাতক্ষীরার প্রশাসনিক মর্যাদা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে জেলার গুরুত্ব বাড়বে।
২. জনবল ও বরাদ্দ বৃদ্ধি: এ ক্যাটাগরির জেলাগুলোতে সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো এবং বাজেট বরাদ্দ তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে উন্নয়নমূলক কাজগুলো আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
৩. আবাসন ও সুবিধা: জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, যা কাজের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
এ ক্যাটাগরিতে সাতক্ষীরা জেলা উন্নীত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনমনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এটি সাতক্ষীরার উন্নয়নের পথে একটি বড় মাইলফলক।সাধারণ মানুষের মতে, ভোমরা স্থলবন্দর এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই নতুন মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন এই জেলাকে আরও বেশি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা এখন আর পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়। পদ্মা সেতুর কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তার সাথে জেলার এই প্রশাসনিক পদোন্নতি যুক্ত হয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। এ ক্যাটাগরির সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দিলে সাতক্ষীরা অচিরেই দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের আয়োজনও লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন স্থানে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম