
মাস্টারি বিডি | শান্তা ইসলাম
জাতীয় ডেস্ক | ঢাকা | ১৫ জুন ২০১৯ | ০১ আষাঢ় ১৪২৬
আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। বর্ষা ঋতুর শুরু। বাংলার চিরচেনা রূপবৈচিত্র্যে যেমনটি ঘটে থাকে তেমনি দেখা গেছে আজও। ভোর সকালেই আকাশ ছাওয়া মেঘে। গুরু গুরু বাদ্য বাজছে আকাশ জুড়ে। এরইমধ্যে দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি নেমেছে। রাজধানীতেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আয়োজন দেখে বোঝা যাচ্ছে যেকোনো সময় মুসল ধারায় নেমে আসতে পারে আষাঢ়ষ্য বর্ষণ। গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড দাবদাহ এরইমধ্যে উধাও। ভ্যাপসা গুমটের পরিবর্তে গায়ে লাগছে হিমেল হাওয়া।
আর মনও যেন কেমন করছে! আকাশে বাতাসে বর্ষা ঋতুর শুভায়োজন দেখে মনের মধ্যেও যে পরিবর্তন লেগেছে- তা বোঝা যাচ্ছে। আহা, এই বর্ষায় শুভ্র কদম কামিনীর রূপের আবেদনে অনন্য অনুভূতির সৃষ্টি হবে হৃদয়ে। নেচে উঠবে প্রেমীক-প্রেমিকার মন।
সৃষ্টির ঋতু বর্ষা। গ্রামীণ পরিবেশে আষাঢ়-শ্রাবণ তথা বর্ষা ঋতু যে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয় এরকমটি আর কোনো ঋতুর পক্ষে সম্ভব নয়। যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে যদিও আষাঢ়ের রূপবৈচিত্র্যে কিছুটা ঘাটতি থেকেই যাবে। কারণ আধুনিক সড়ক যোগাযোগের ফলে কর্দমাক্ত হালট কিংবা কাঁচা সড়ক দেখা যাবে না – বিজলী বাতির প্রচলন হওয়ায় সেইরকম আষাঢ়ে আঁধার নামবে না গ্রামে গঞ্জে – গ্রামীণ জনপদ থেকে টিনের ঘরও কমে গেছে সেখানে এসেছে পাকা বাড়ি – সে কারণে ঝমঝমিয়ে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ তেমনভাবে আর শোনা যাবে না। কমে গেছে গাছগাছালি লতাগুল্মের ঝোঁপঝাড়। ফলে প্রকৃতির এ পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিঝরার সেই রূপ সৌন্দর্যে যে পরিবর্তন দেখা যাবে – তাকে বিবর্তনের অমোঘ ধারা হিসেবেই মেনে নিতে হবে।

আর রাজধানীসহ অন্য শহরগুলোতে বৃষ্টিযাপন বিঘ্নিত হয় অনভিপ্রেত জলাবদ্ধতার জন্য। সে যা হোক, আষাঢ় স্বরূপে বিরাজ করুক বাংলায় – বাঙালির জীবনে – এই প্রত্যাশা। বর্ষাযাপনে উৎসবে আয়োজনে মেতে উঠুক বাঙালি- এ শুভ কামনা।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম